যে ৬টি কারণে শিশুদের নিয়মিত গল্প শোনাবেন

সকালে হুড়োহুড়ি করে নিজেকে গুছিয়ে নিয়ে, বাচ্চাকে স্কুলের জন্যে তৈরি করিয়ে অফিসের দিকে রওনা দেওয়া, সারাদিন একটানা কাজ করে ক্লান্ত হয়ে বাসায় ফেরা, রাতের বেলা মুখে কোনরকমে দু-চারটা ভাত গুজে সবাইকে শুভরাত্রি বলেই গভীর ঘুমে তলিয়ে যাওয়া- এই কি আপনার নিত্যদিনের রুটিন? কেন এত ব্যস্ত আপনি? উত্তরটা খুবই সহজ। নিজেদের ভবিষ্যত, সন্তানের ভবিষ্যত, একটু ভালো থাকা, সবাইকে ভালো রাখা। এজন্যেই তো দিনভর এত ছোটাছুটি। কিন্তু আপনার এই ব্যস্তময় জীবনের ভবিষ্যত যাকে ঘিরে কখনো তার দিকে তাকিয়ে দেখেছেন সে কি চাচ্ছে? তার সত্যিই কি দরকার?
চারপাশের সাথে তাল মেলাতে গিয়ে, বর্তমান যুগের মানুষ হতে গিয়ে, সন্তানকে বর্তমান সমাজের সবচাইতে ভালো সুযোগ-সুবিধা পাইয়ে দিতে গিয়ে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাকে আরো অনেক বেশী পিছিয়ে দিচ্ছেন আপনি। মনে করে দেখুন তো, সেই ছোট্টবেলায় বাবার কাঁধে মুখ গুঁজে বা মায়ের কোলে মাথা রেখে গল্প শোনার সময়গুলোকে। হয়তো ভাবছেন এসব এখনকার যুগে অতটা প্রয়োজনীয় নয়। সন্তানকে গল্প শোনানোর ব্যাপারটা অনেকটাই হয়তো সেকেলে ঠেকছে আপনার কাছে। কিন্তু খানিকটা সেকেলে হলেও সত্যি যে রাতের বেলায় পরম মমতায় বলা এই গল্পগুলো অনেকটা সাহায্য করে আপনার ছোট্ট সোনামণির চিন্তার পরিধিকে আরো বিকশিত করতে। তাকে এগিয়ে নিতে। চলুন জেনে নেওয়া যাক আপনার বেড়ে ওঠা ভবিষ্যতকে ঠিক কি কি ভাবে আরো এগিয়ে নিতে পারে গল্পবলার ছোট্ট প্রক্রিয়াটি।

১. শব্দভান্ডার বাড়িয়ে তোলে
প্রতিদিনকার শোনা নতুন নতুন গল্প বাড়িয়ে তোলে আপনার ছোট্ট বাচ্চাটির শব্দভান্ডারকে। তাকে পরিচিত করে দেয় নতুন নতুন শব্দের সাথে। শব্দের খেলাকে সে অনেকটা আপন করে ভাবতে শেখে এসময়। ফলে পরবর্তীতে অন্যান্য অনেক শিশুর চাইতে এদিক দিয়ে স্বাভাবিকভাবেই অনেকটা এগিয়ে থাকে সে।
২. ভালো শ্রোতা করে তোলে
আপনার বলা মজার গল্পটির প্রতি আকৃষ্ট হয়ে গালে হাত দিয়ে মনযোগ দিয়ে সবটা শুনছে আর মাঝে মাঝে মাথা নাড়ছে যে শিশুটি সে কিন্তু কেবল আপনার সামনেই নয়, ধীরে ধীরে মনযোগী শ্রোতা হয়ে উঠবে আর সবার সামনেও। সাধারণত, স্কুলে বাচ্চাদের একটা বড় সমস্যা হল তারা শিক্ষকের কথা না শুনে পাশের বন্ধুদের সাথে বেশী কথা বলে থাকে। শিক্ষক বা অন্য কারো কথায় মনযোগ দেবার ধৈর্য্যটা তাদের থাকেনা। অনেক কথা, অনেক চেষ্টাতেও কোন লাভ হয়না। তবে এই সমস্যার একটা চমৎকার আর সহজ সমাধান হতে পারে গল্প শোনানো।
৩. কল্পনা করতে সহায্য করে
বর্তমান প্রযুক্তির যুগে শিশুদের মানসিক বিকাশ কমে গিয়েছে। তারা এখন কোন কিছু ভাবার চাইতে সামনা সামনিই সেটা দেখতে অভ্যস্ত। রাতের বেলা মায়ের কোলে শুয়ে আর তাদের কল্পনা করতে হয় না যে পঙ্খীরাজ ঘোড়া ঠিক দেখতে কেমন। তারচাইতে টেলিভিশন বা কম্পিউটারের সামনে সময় কাটাতেই তারা বেশী সাচ্ছন্দ্যবোধ করে। আর তাদের এই ভাবনার জগতকে আবার বাড়িয়ে তুলতে গল্প শোনানোর কোন বিকল্প নেই।

৪. ঐতিহ্যের সাথে পরিচিত হওয়া
শিশুদের নানা রকম ছোট ছোট শিক্ষামূলক গল্প শোনানোর মাধ্যমে কোন অতিরিক্ত চাপ ছাড়াই ওরা আরো অনেক বেশী সচেতন হয়ে ওঠে নানা বিষয়ে। এছাড়া রাজা-রাণী, রাক্ষস-খোক্কসের গল্পের ভেতরেও ওরা স্বাদ পায় নিজেদের ঐতিহ্যের। নিজের দেশের ভেতরকার গল্পের।
৫. আগ্রহী করে তোলে
রাতে আপনার শোনানো গল্পগুলো নতুন নতুন জিনিসের প্রতি আগ্রহী করে তোলে শিশুদের। তারা প্রশ্ন করতে শেখে। জানতে আগ্রহ বোধ করে। তার স্মৃতিশক্তিকে আরো জোরদার করে তোলে।
৬. আবেগ গড়ে তোলে
বর্তমান প্রযুক্তির যুগে মানুষের ভাবাবেগ বেশ কমে গেছে। কমে গেছে শিশুদের নানারকম অনুভূতিও। সেসবকে বাড়িয়ে আবার স্বাভবিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করে এই গল্প শোনানোর প্রক্রিয়াটি।