সবাই সামাজিক দায়বদ্ধতা এড়িয়ে গেলে উন্নয়ন সম্ভব নয়

সারাদেশের মতো নিকলী উপজেলায়ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে জোরেসোরে। প্রথমবারের মতো এবারই দলীয় ব্যানারে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে প্রতিটি রাজনৈতিক দল থেকেই প্রার্থী নির্বাচনের কাজ চলছে খুব সূক্ষ্মভাবে। চুলচেরা বিশ্লেষণ করছেন দলের স্থানীয় নীতিনির্ধারক থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যায়ে। দলীয় মনোনয়ন চাওয়ার দৌড়ে আছেন বয়সে প্রবীণ ও অভিজ্ঞতায় পোড় খাওয়া বহু প্রার্থী। তেমনি তরুণ ও মেধাবীরাও। সাধারণ ভোটাররা অপেক্ষায় আছেন তাদের যোগ্যতম প্রার্থীদের বাছাই করার জন্য। এ বছরই প্রথম নিকলীর নির্বাচনী আকাশে বেশ কয়েকজন তরুণ প্রার্থী নেমেছেন। তাদের একজন কারপাশা ইউনিয়ন থেকে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী এএম রুহুল কুদ্দুস ভূঞা (জনি)। সম্প্রতি আমাদের নিকলী মুখোমুখি হয়েছিল এই তরুণ রাজনীতিকের। নানান বিষয়ে তিনি তার পরিকল্পনার কথা আমাদের জানিয়েছেন। পাঠকদের জন্য এর বিস্তারিত প্রকাশ করা হলো।

কারপাশা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় গণযোগাযোগে ব্যস্ত রুহুল ভূঞা

বয়সে তরুণ। ছাত্ররাজনীতির সাথে জড়িত আছেন। শোনা যাচ্ছে, আপনি কারপাশা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হচ্ছেন। এ বয়সে এমন একটি সিরিয়াস সিদ্ধান্ত কেন?
প্রকৃতপক্ষে রাজনীতি বলতে আমরা বুঝি রাজার নীতি অর্থাৎ উদারনীতি। এ পেশায় যারা সম্পৃক্ত থাকেন তাদের একমাত্র লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো জনগণের সেবা নিশ্চিত করা কিন্তু বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে অনেকাংশে এ বিষয়গুলোর উল্টো চিত্র প্রতিফলিত হচ্ছে। দলীয়করণ, দলবাজি এবং দলকানাদের দৌরাত্ম্য এতই বেড়ে গেছে যে, এখন আর প্রকৃত রাজনীতির চর্চা হচ্ছে না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে রক্ষকেরা ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হচ্ছেন।
আর এ বিষয়গুলো অনুধাবন করেই আমি এরকম সিদ্ধান্থে উপনীত হয়েছি, যেহেতু স্থানীয় সরকার কাঠামোর সবচেয়ে শক্তিশালী এবং গুরুত্বপূর্ণ স্তর হলো ইউনিয়ন পরিষদ সে দিকটা বিবেচনায় রেখেই আমি কারপাশা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী হওযার জন্য চেষ্টা করছি।
তবে হ্যাঁ, জনপ্রতিনিধি হয়েই জনগণের পাশে থাকতে হবে এটাও আমি বিশ্বাস করি না। আমার পারিবারিক ঐতিহ্য এবং আমার অবস্থান হতে আমি সব সময়ই জনগণের পাশে ছিলাম, আছি এবং থাকবো ইনশাল্লাহ।
বর্তমান সময়ে এ পদটিতে সৎ, শিক্ষিত, যোগ্য ও দক্ষ লোকের খুবই অভাব। আর সাধারণ জনগণকে এই আস্থার সংকট হতে উত্তরণের জন্য এই যুগোপযোগী ও একটি সিরিয়াস সিদ্ধান্ত নিয়েছি, বাকিটা মহান করুণাময়ের ইচ্ছা।

প্রথমবারের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় ব্যানারে হতে যাচ্ছে, এবং আপনি বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী। মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আপনি কতটা আশাবাদী?
যেহেতু আমি এবং আমার পরিবার একটি রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত সেহেতু আমি দলীয় ব্যানারের বাইরে না। তবে আমার ব্যক্তিগত কমিটমেন্ট এবং তৃণমূল পর্যারের সাধারণ নেতা-কর্মী ও জনগণের দৃষ্টি বিশ্লেষণ করলে দলের মনোনয়নের ব্যাপারে আমি অনেকটাই আশাবাদী। আমি বিশ্বাস করি আমার রাজনৈতিক দল একটি যুগোপযোগী সিন্ধান্ত নিবে এবং আমি যথেষ্ট Optimistic একজন মানুষ, আমি কেবল স্বপ্ন দেখতে না বরং অন্যের স্বপ্ন পূরণ করতেও বদ্ধপরিকর।

আপনার বাবা ছিলেন নিকলী উপজেলার চেয়ারম্যান। তিনি চলমান সময়ের উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি। এ বিষয়টি আপনার নির্বাচনে কতটা প্রভাব ফেলবে?
আমার বাবা জনাব মোঃ ইসহাক ভূঞা, নিকলী উপজেলার ১ম নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান এবং বর্তমান থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি- আমার আদর্শ, অনুপ্রেরণা এবং চলার পথের পাথেয়। তিনি সত্য ও ন্যায়ের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। আমার বাবার যে গুণটি আমার সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করে তা হলো তার সময় জ্ঞান, সদালাপ এবং নিষ্ঠা। যেহেতু আমার বাবা থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি, সেহেতু আমি চাইলেও অনেক কিছু বলতে বা করতে পারি না। তিনি সুদীর্ঘ ১১ বছর যাবৎ সভাপতিত্ত্ব করছেন এবং চেষ্টা করছেন স্বজনপ্রীতির উর্ধ্বে থাকার জন্য। আর আমি তার সন্তান হিসাবে কখনও এ ক্ষমতার অপব্যবহার করিনি এবং করবোও না। অন্যান্য সাধারণ মনোনয়ন প্রত্যাশীরা যেরকম সুযোগ-সুবিধা পাবেন আমিও তার ব্যতিক্রম নই; বরং কোনও কোনও ক্ষেত্রে আমি তাদের অনুজ প্রতিম।

আঞ্চলিক সমস্যার কোনো তালিকা করেছেন কি?
কারপাশা ইউনিয়নে অনেক সমস্যা রয়েছে এবং আমি সেগুলোর ব্যাপারে ওয়াকিবহাল। গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার মধ্যে রয়েছে- মাদক, জুয়া, বেকারত্ব, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বল্পতা, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং তথ্য প্রযুক্তিতে অনগ্রসরতা।

এই ইউনিয়নের মানুষের প্রধান স্থানীয় পেশা হলো কৃষি। নির্বাচিত হলে কৃষিকাজে জড়িত এবং আঞ্চলিক কৃষি বিষয়ে আপনার কি রকম প্ল্যানিং আছে?
এই ইউনিয়নের শতকরা ৯০ ভাগ মানুষের পেশা হলো কৃষি। আর এ দিকটা বিবেচনার রেখে কৃষি সংশ্লিষ্ট মানুষদের জন্য আমার বিশেষ কিছু পরিকল্পনা রয়েছে। উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার এবং কৃষিক্ষেত্রে সেগুলোর প্রয়োগ যেমন- সার, বীজ, ফসল রোপন ও তার রক্ষণাবেক্ষণ, কীটনাশক, ফসল আহরণ এবং মজুদকরণ। সর্বোপরি কৃষকের ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ। মধ্যস্বত্ত্বভোগী ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করে ভোক্তা পর্যায়ে কৃষি অধিদপ্তর এবং NGO কর্মীদের সহযোগিতায় নিয়মিত প্রশিক্ষণ এবং Counseling এর ব্যবস্থাকরণ।

থানা এবং জেলার সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই খারাপ। বিশেষ করে বর্ষাকালে এক গ্রামের সাথে অন্য গ্রামের সড়ক যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন থাকে। শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যাওয়া থেকে শুরু করে জরুরি চিকিৎসা সেবা গ্রহণসহ সব ধরনের যোগাযোগে বিঘ্ন ঘটে। এ ব্যাপারে আপনার পরিকল্পনা কি?
১৯৯৬ সালের আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে আমাদের প্রয়াত রাষ্ট্রপতি তৎকালীন LGED মন্ত্রী জিল্লুর রহমানের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় এবং LGED’র অবসরপ্রাপ্ত সচিব জনাব কারার মাহমুদুল হাসানের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় আমাদের কারপাশা ইউনিয়নবাসীর প্রাণের দাবি নিকলী হতে মদন পর্যন্ত উঁচু রাস্তাটি অনুমোদিত হয় এবং সে অনুযায়ী জায়গা Acquire সহ কাজগুলো আরম্ভ হয়। কিন্তু পরবর্তীতে ২০০১ সালের পর ওই প্রকল্পটি আর আলোর মুখ দেখেনি। বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের এমপি মহোদয়ের অক্লান্ত চেষ্টায় এবং আমাদের নেতৃবৃন্দ্বের উদ্যোগে এটি আবার আলোর পথ দেখতে শুরু করেছে। শ্রীঘ্রই আমরা এই যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন লক্ষ্য করবো। আর সেই সাথে জাইকার তত্ত্বাবধানে আমাদের বড় হাওরকে নিয়ে বিশেষ একটি জরিপ কাজ চলছে। এ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নিকলী, কারপাশা এবং করিমগঞ্জের কৃষি ক্ষেত্রে এক বিপ্লব হবে বলে আমরা আশাবাদী। তখন স্লুইচ গেটের মাধ্যমে পানি শাসন করে আমরা এক ফসলের পরিবর্তে তিন ফসল ঘরে তুলতে পারবো। পাশাপাশি এ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে মৎস্য সম্পদে আমরা বিপ্লব ঘটাতে পারবো বলে আমি মনে করি।
একটি দেশ বা অঞ্চলের উন্নতির প্রধান এবং অন্যতম মাধ্যম হলো যোগাযোগ। এই দিকটা হতে আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। এ বিষয়টি অনুধাবন করে যেহেতু আমি একজন কৃষক পরিবারের সন্তান, সেহেতু যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়নের মাধ্যমে আমি কৃষি এবং কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপনকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে স্থান দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করব।

শোনা যায়, আপনার নির্বাচনী এলাকায় মাদক, জুয়ার কিছু চিহ্নিত স্পট রয়েছে। এমন অসামাজিক কার্যক্রম প্রতিরোধে সামাজিক কোনো আন্দোলন ওঠেনি। আপনি ব্যক্তিগত কোনো উদ্যোগ নিয়েছেন কি? দমনে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?
বর্তমান সময়ে মাদকের নীল দংশনে আমাদের সমাজ, দেশ ছিন্ন-ভিন্ন, তরুণ সমাজ বিপথগামী। এ ব্যাপারে আমার ব্যক্তিগত উদ্যোগে গত তিন বছর যাবৎ ১লা বৈশাখে মাদকবিরোধী কনসার্ট এবং জনসচেতনতা সৃষ্টির চেষ্টা করে আসছি। আমার এলাকার একটি সংগঠন “বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংঘের” পর পর দুই বার সভাপতি এবং তার পূর্ববর্তী সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ত্ব পালনকালে মাদকবিরোধী কনসার্ট, র্যা লি এবং বিনামূল্যে চিকিৎসা ও রক্তদান কর্মসূচীর উপর সেমিনার এবং কর্মসূচীর আয়োজন করেছি। সমাজের তরুণদের নিয়ে মাদক স্পট কয়েকবার গুড়িয়ে দিয়েছি। তারপরও ব্যক্তিগত পর্যায়ে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। যদি কখনও জনপ্রতিনিধি হয়ে আসতে পারি, তবে আমার প্রধান কাজ হবে মাদক স্পট চিহ্নিত করে, মাদক ব্যবসায়ীদের কঠোর বিচার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। এছাড়াও আমি ব্যক্তিগতভাবে সবসময় প্রশাসনকে এ বিষয়গুলো অবহিত করে থাকি। আমার বাবা জনাব মোঃ ইসহাক ভূঞা উপজেলা পরিষদের আইনশৃঙ্খলা কমিটির অন্যতম সদস্য। তিনিও প্রশাসনকে এ ব্যাপারে যথেষ্ট সহযোগিতা করে থাকেন। আমি যদি কখনও জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হই সেক্ষেত্রে আমার প্রথম কমিটমেন্ট হলো কারপাশার চামার বাড়ি যেখানে মদ বানানো হয়, তা উচ্ছেদ করে তাদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।

এলাকার উন্নয়ন ও দারিদ্র্য দূরীকরণে আপনার ভবিষ্যত পরিকল্পনা কি?
এলাকার উন্নয়ন এবং দরিদ্রতা দূরীকরণে কর্মসংস্থান সৃষ্টির কোন বিকল্প নেই। আমার এলাকার অধিকাংশ মানুষ যেহেতু কৃষির সাথে জড়িত সেহেতু তাদের কৃষিভিত্তিক শিল্প ব্যবস্থার সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়া হবে আমার মূল কাজ। এ ব্যাপারে আমার ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি হলো চায়না এবং মালয়েশিয়ার প্রধান অর্থনীতি ছিল কৃষিভিত্তিক। আজ তাদের উন্নতির প্রধান কারণ তারা প্রথমেই কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপনের মাধ্যমে কৃষিকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রণোদনা দিয়েছে এবং পরবর্তীতে ঐ দেশগুলো উন্নতির চরম শিখরে আরোহণ করেছে।
এছাড়া বেকার যুবক-যুবতীদেরকে বিভিন্ন NGO এবং প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ক্ষুদ্র কুটির শিল্প, যেমন- ব্লক, বুটিক, তৈজসপত্র, মৎস চাষ, হ্যাচারি, গবাদি পশু, পোল্ট্রি ফার্ম, খামার স্থাপন ও ব্যবস্থাপনার ব্যাপারে প্রশিক্ষণ কর্মশালা করে তাদের দক্ষ করে তোলা এবং ব্যাংক ও বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান হতে ঋণের ব্যবস্থা করে তাদের সাবলম্বী করা। এর পাশাপাশি যেহেতু বর্তমান যুগ তথ্য প্রযুক্তির যুগ সে কথাটি বিবেচনায় রেখে আমি শিক্ষিত যুব সমাজকে Outsourcing Training এর মাধ্যমে বেকাররত্ব দূরীকরণে অবদান রাখব। এই Sector টিতে সরকারী প্রণোদনা যেমন রয়েছে তেমনি আমারও একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যার মাধ্যমে আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে আমার এলাকায় ১টি Training Center চালু করতে চাই।

বাংলাদেশের গ্রামীণ জনসাধারণের ঝগড়া-বিবাদ ও মামলা মোকদ্দমা সংক্রান্ত বিড়ম্বনা এবং এ ধরনের খরচের হাত থেকে অব্যাহতি দেয়ার কোনো উপায় ভেবেছেন?
গ্রাম আদালত যথাযথ বাস্তবায়নের মাধ্যমে এবং ইউনিয়ন পরিষদে যোগ্য শিক্ষিত ও দক্ষ নেতৃত্ব নির্বাচিত করার মধ্য দিয়ে গ্রামীণ জনসাধারণের ঝগড়া বিবাদ ও আদালতের মামলা মোকাদ্দমা অনেকাংশে হ্রাস করা সম্ভব। বর্তমান সময়ের পেক্ষাপটে আমাদের সমাজের তথাকথিত সালিশকারীদের অসততার জন্য আইনের শাসন অনেকাংশে দুর্বল। আমাদের এলাকা যেহেতু একটি অনগ্রসরমান প্রত্যন্ত অঞ্চল সেহেতু অনেকেই জানে না যে বিনা পয়সায় সরকারী সহযোগিতা এবং বিভিন্ন বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আইনি সহয়তা পাওয়া সম্ভব। আমি এই বিষয়গুলিকে অধিক গুরুত্ব আরোপ করব এরং আমার এলাকাকে সুশাসনের মাধ্যমে একটি মডেল এলাকা হিসেবে গড়ে তুলবো।

দলীয় মনোনয়ন না পেলেও কি নির্বাচনে লড়বেন? জয়ের ব্যাপারে কতটা আশাবাদী?
আমার বাবার আর্দশ এবং মতামত আমার কাছে সর্বাগ্রে।আমি আমার বাবার অমতে কোন সিদ্বান্তে যাব না। মনোনয়নের ক্ষেত্রে আমার বাবার সিদ্বান্ত এখানে বড় একটি Factor হিসেবে কাজ করবে, তথাপি দল যাকে যোগ্য এবং দক্ষ মনে করবে আমি তার সাথেই থাকবো। জয়-পরাজয়ের ব্যপারটাতো চিরন্তন সত্য, প্রত্যেক প্রার্থীই তার জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী তেমনি ভাবে আমি যদি দল থেকে মনোনীত হই তবে আমার মনে হয় আমার এলাকাবাসী সঠিক নেতৃত্ব এবং যোগ্য ব্যক্তিকেই বেছে নেবেন।

আপনি মেধাবী ছাত্র। বর্তমান সময়ে রাজধানী শহরে একটি খ্যাতনামা কোচিং সেন্টার চালাচ্ছেন। এ পেশায় কিভাবে যুক্ত হলেন?
আমি Northern University হতে English এ Graduation এবং Master Degree Complete করে MBA সম্পন্ন করেছি। বর্তমানে L.L.B অধ্যয়নরত। আমার পড়ালেখা হাতেখড়ি হয় রাজধানীর ১টি স্বনামধন্য প্রি-ক্যাডেট স্কুলের মাধ্যমে। H.S.C পাস করার পর ৫৩তম BMA Long Course-এ নির্বাচিত হই এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশর অন্যতম সফল ১টি সামরিক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন Course Co-ordinatior এর দায়িত্বে ছিলাম। বর্তমানে Divine Defence Coaching এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক এবং সফলতার সাথে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছি। আমাদের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় সারা বাংলাদেশে ১৫০০ এর অধিক কর্মকর্তা সশস্ত্র বাহিনীতে কর্মরত আছেন। আমার কাছে এর চেয়ে বড় পাওয়া আর কিছুই হতে পারে না। বাংলাদেশের সবকটি ক্যান্টনমেন্ট এর ইউনিট এ আমাদের প্রশিক্ষণার্থীরা সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন।

নিকলীতে বেশ কয়েকটি নদী আছে। সবগুলোই প্রায় অবহেলিত। নদী ব্যবস্থাপনা নিয়ে কোনো পরিকল্পনা আছে?
নিকলী উপজেলা বাংলাদেশের ভাটি এলাকাগুলোর মধ্যে অন্যতম। এখানে যে নদীগুলো রয়েছে তার অনেকগুলোই এখন মৃতপ্রায়। এগুলো ড্রেজিং এর মাধ্যমে মাছের অভয়াশ্রম যেমন করা যায়, তেমনি কৃষি ক্ষেত্রেও সেচের মাধ্যমে এক বিপ্লব ঘটানো সম্ভব। এতে করে যোগাযোগ ব্যবস্থার যেমন উন্নতি হবে ঠিক তেমনি বন্যাও অনেকাংশে হ্রাস পাবে। আমাদের এলাকর ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি যেমন- নৌকা বাইচ, ঘাটু গান ইত্যাদির মাধ্যমে পর্যটন শিল্পও বিকাশ করা সম্ভব।

আমাদের নিকলীকে সময় দেয়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ।
আমাদের নিকলী ডট কম নিকলীর ১ম অনলাইন পোর্টাল। আমি এর নিয়মিত পাঠক। ডিজিটালাইজেশনের এই যুগে এর নিয়মিত আয়োজন ও উপস্থাপন অত্যন্ত সময়োপযোগী। আমি এই পোর্টােলের এবং সংশ্লিষ্ট সকলের সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করি।