ভৈরবে ভাইরাসে আক্রান্ত ৫শ’ গবাদি পশু, ১০টির মৃত্যু

আমাদের নিকলী ডেস্ক ।।

কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলায় প্রায় ৫শ’ গবাদি পশু লাম্পিং স্কিন ডিজিজ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে অন্তত ১০টি পশুর মৃত্যু হয়েছে বলেও জানা গেছে। কোরবানির ঈদের আগে উপজেলায় গবাদি পশুর শরীরে এই ভাইরাস দেখা দেয়ায় শঙ্কিত প্রান্তিক খামারিরা।

লাম্পিং স্কিন ডিজিজ ভাইরাস প্রতিরোধে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস থেকে খামারিদের নানা পরামর্শ ও ভ্যাকসিন সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে দেশের বা আশপাশের জেলা-উপজেলা থেকে আক্রান্তের হার ভৈরবে অনেক কম বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রাণিসম্পদ অফিস।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে প্রতি বছরের মতো এবারও ভৈরব উপজেলায় ছোট-বড়সহ প্রান্তিক পর্যায়ের ১ হাজার ৯০টি খামারে গবাদী পশু লালন-পালন করছেন খামারিরা। এসব খামারে ৮ হাজার ৮১৬টি গরু, ছাগল ও মহিষ লালন-পালন করছেন তারা। যার মধ্যে ৩ হাজার ৩১১টি ষাঁড়, ২ হাজার ৩৪১টি বলদ, ১৭৫টি মহিষ এবং ১ হাজার ৮১১টি ছাগল রয়েছে।

এদিকে দেশে মহামারি করোনাভাইরাসের সময় বিভিন্ন খামারে গবাদি পশুর শরীরে লাম্পিং স্কিন ডিজিজ নামের এই ভাইরাস দেখা দেয়ায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন খামারিরা। এমনিতেই কাজকর্ম না থাকায় হাজার হাজার মানুষ বিপাকে পড়েছেন। ঠিক এমন সময় গবাদী পশুর শরীরে এই ভাইরাস দেখা দেয়ায় দু’চোখে অন্ধকার দেখছেন তারা।

খামারিরা জানান, কোরবানির ঈদের আগে গরু-বাছুর আক্রান্ত হওয়ার ফলে তারা শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। এরই মধ্যে কয়েকটি পশু মারা যাওয়ার খবরে তারা আরও চিন্তিত। যদিও এখন আর কোনো গরু-বাছুর মারা যাওয়ার খবর পান না তারা। এছাড়াও আগের তুলনায় রোগটি এখন কমতে শুরু করেছে। ফলে খামারিদের দুশ্চিন্তাও কমেছে। তাদের মতে উপজেলায় শতকরা ৭০ শতাংশ গবাদি পশু এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে।

উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের প্রান্তিক খামারি আমির হোসেন জানান, প্রথমে তার একটি বাছুরের শরীরে এই ভাইরাসটি দেখা দেয়। পরে অন্য গবাদি পশুগুলো আক্রান্ত হয়। আগের তুলনায় এখন গরুগুলো ভালোর দিকে।

এছাড়াও আগানগর ইউনিয়নের নবীপুর গ্রামের খামারি মনির হোসেন জানান, ঈদের আগে খামারে এই ভাইরাস দেখা দেয়ায় তিনি অনেক চিন্তিত।

ভৈরব উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম খান জানান, এরই মধ্যে আক্রান্ত অনেক গরু-বাছুর সুস্থ হয়েছে। তাছাড়া প্রথম দিকে ১০টির মতো মারা গেলেও এখন আর কোনো গরু-বাছুর এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে না।

তিনি আরও জানান, গেল বছরের তুলনায় এবার উপজেলায় গবাদি পশু লালন-পালন কিছুটা কমেছে। তবে কোরবানির জন্য পশুর কোনো সংকট হবে না। কেননা উপজেলায় কোরবানির জন্য মাত্র ৬ হাজার পশুর চাহিদা রয়েছে। সে তুলনায় প্রায় ৯ হাজার গরু, ছাগল ও মহিষ লালন-পালন করছেন খামারিরা। তাছাড়া গেল বছরের তুলনায় এবার পশুর চাহিদাও কম হবে।

লাম্পিং স্কিন ডিজিজ ভাইরাসে আক্রান্ত বাছুর

সূত্র : জাগোনিউজ২৪