ব্র্যাকের “কোরিয়ান” কর্মচারীদের মানবেতর জীবনযাপন

মহিউদ্দিন লিটন, বাজিতপুর সংবাদদাতা ।।

স্বনামখ্যাত বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা “ব্র্যাক” ১৯৭২ সাল থেকে দেশের পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক অবস্থা ও অবস্থানের পরিবর্তনের লক্ষ্যে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পসহ নানামুখী মানবিক কর্মসূচী বাস্তবায়ন করে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে কাজ করে আসছে।

দেশের প্রায় প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় রয়েছে “ব্র্যাকে”র রিজিওনাল ও শাখা অফিস। আর এই অফিসসমূহে কর্মরত আছেন বিপুলসংখ্যক কর্মকর্তা ও কর্মচারী। প্রতিটি রিজিওনাল ও শাখা অফিসে বিভিন্ন পদে কর্মরত কর্মকর্তাদের পাশাপাশি “কোরিয়ান” পদেও একজন করে মাস্টাররোলের কর্মচারী দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এই কোরিয়ান পদধারী কর্মচারীরা একেকজন ন্যূনতম ৭ থেকে ১৫ বছর যাবৎ দায়িত্ব পালন করলেও এই দীর্ঘ সময়েও তাদের পদটিকে স্থায়ীকরণের কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি বলে জানা যায়।

কিশোরগঞ্জ জেলার সদরসহ ১৩ উপজেলায় কর্মরত কোরিয়ান কর্মচারীদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বললে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আমরা একেকজন প্রতিষ্ঠানে কোরিয়ান পদে কেউ ৭ বছর, কেউ ১২ বছার থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত কাজ করছি। এখনো স্থায়ী করা হয়নি। শুধু তাই নয়, অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সরকারি বিধি মোতাবেক শুক্রবার ও শনিবার দুইদিন সাপ্তাহিক ছুটি ভোগ করলেও আমাদের কোনো সাপ্তাহিক ছুটি নেই। জরুরি প্রয়োজনে ছুটির দরকার হলে বিনা বেতনে আমাদের ছুটি মঞ্জুর করা হয়। যেখানে কায়িক শ্রমিকরা দৈনিক মজুরি ন্যূনতম ৫০০ (পাঁচশত) টাকা উপার্জন করে, সেখানে আমরা পাই মাত্র ২৫০ (দুইশত পঞ্চাশ) টাকা হিসাবে মাসে ৭৫০০ (সাত হাজার পাঁচশত) টাকা। দুর্মূল্যের এই বাজারে যা দিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে চলা খুবই কষ্টসাধ্য। ফলে আমরা অত্যন্ত মানবেতর জীবন-যাপন করছি। আমরা কোরিয়ান দায়িত্বের পাশাপাশি অফিস পরিষ্কার-পরিছন্নতা, ফরমায়েস, অফিস পাহারা, এমনকি বাথরুম ক্লিনিংয়ের কাজও করে থাকি। তাছাড়া প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী হিসেবে আমাদের কোনো পরিচয়পত্রও দেয়া হয় না। পরিচয়বিহীন দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে আমাদের নানা অস্বস্তিকর প্রশ্নের সম্মুখিন হতে হয়। বর্তমান করোনাভাইরাস দুর্যোগে লকডাউন সময়ে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রশাসনসহ বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রশ্নের মুখে পরিচয়পত্র দেখাতে পারিনি বলে অনভিপ্রেত পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে।

বিভিন্ন সময় শাখার কর্মকর্তা বরাবর মৌখিক ও লিখিত আবেদন করলেও কর্তৃপক্ষ তা আমলে নেয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ বিষয়ে কয়েকজন শাথা ব্যবস্থাপকের সঙ্গে কথা বললে, তারা জানান, কোরিয়ান পদটি স্থানীয়ভাবে নিয়োগকৃত। আমরা বিভিন্ন সময়ে মাসিক সমন্বয় সভায় কোরিয়ানদের দাবির বিষয়টি উত্থাপন করেছি। বিষয়টি প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয়ের নীতিনির্ধারকদের বিষয়।