নিকলী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের উপর হামলা, মামলা

খাইরুল মোমেন স্বপন, বিশেষ প্রতিনিধি ।।

রোববার (২৬ জুলাই) সকালে কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আহসান মো. রুহুল কুদ্দুস ভূইয়ার (৩৩) ওপর আক্রমণ ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। একই দিন বিকালে ওই চেয়ারম্যান বাদী হয়ে নিকলী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

জানা যায়, রোববার সকাল ৯টায় নিজ কার্যালয়ে আসতে উপজেলার কারপাশা ইউনিয়নের বদরপুর গ্রাম থেকে রকি (২০) ও তুষার (২২) নামে দুই যুবককে সঙ্গে নিয়ে সরকারি গাড়িযোগে রওনা হন নিকলী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আহসান মো. রুহুল কুদ্দুস ভূইয়া। গাড়িটি নিকলীস্থ জেলা পরিষদ অডিটরিয়াম কাম কমিউনিটি সেন্টারের সামনে আসামাত্র কামরুল (৩০) নামে চেয়ারম্যানের এক সাবেক সমর্থক গাড়ি থামাতে ইঙ্গিত করে। গাড়ি থামালে কামরুলকে উত্তেজিত এবং তার সাথে প্রতিপক্ষের ১৫-১৬ জন যুবককে দেখতে পান চেয়ারম্যান আহসান মো. রুহুল কুদ্দুস ভূইয়া। তারা চেয়ারম্যানকে গাড়ি থেকে নামতে বলে।

চেয়ারম্যানের সঙ্গিয় রকি ও তুষার নেমে কারণ জিজ্ঞেস করতে গেলে তাদের উপর চড়াও হয় যুবকদল। এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষিতে দ্রুত রকি ও তুষার গাড়ির ভিতরে আশ্রয় নেয়। গাড়ি ছেড়ে দেয় চালক। এসময় কামরুলের সঙ্গিয় যুবকরা ইটপাটকেল ছুঁড়ে। কাঁচ ভাংচুরসহ ক্ষতিগ্রস্ত হয় চেয়ারম্যানের জন্য বরাদ্দ সরকারি গাড়িটি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত জানাজানি হয়। উপজেলা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা। আহসান মো. রুহুল কুদ্দুস ভূইয়ার কয়েক হাজার উত্তেজিত সমর্থক উপজেলা পরিষদ চত্বরে জমায়েত হতে শুরু করে। থানা পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

নিকলী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আহসান মো. রুহুল কুদ্দুস ভূইয়া জানান, নির্বাচনে পরাজয়ের আক্রোশ মেটাতে একটা পক্ষ দীর্ঘদিন যাবৎ তৎপর। এমনই একটি চক্র হীন উদ্দেশ্যে এই যুবকদের উত্তেজিত করেছে। যাদের সাথে আমার বিরোধের কোনো কারণই নেই।

নিকলী থানা অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) শামসুল আলম সিদ্দিকী জানান, ৮-১০ জনের নাম ও অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে উল্লেখ করে একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তের স্বার্থে নাম প্রকাশ করা যাচ্ছে না। তদন্তের পরে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।