মুক্তোর মতো হাসি চাই?

সুন্দর হাসি বললে মনে পড়ে ভারতের মাধুরী দীক্ষিতের কথা৷ তার মুক্তোর মতো হাসি মুগ্ধ করতে পারে হাজার হাজার মানুষকে৷ তার হাসির পাগল ফ্যান হওয়ার অন্যতম কারণ তার দাঁতের সুন্দর গঠন এবং সাদা রঙ৷ আপনার হাসিরও এতটাই কেউ ফ্যান হতে পারে যদি আপনার দাঁত হয় সাদা৷ অন্ধকার ঘরকে এক হাসিতেই আলোকিত করতে পারেন আপনিও৷ কাটিয়ে তুলতে পারেন আপনার দাঁতের রঙিন ভাবকে৷ শুধুমাত্র দেখতে সুন্দর হলেই চলবে না, এর সঙ্গে দরকার সাদা দাঁতের সুন্দর হাসি৷ যা সামনের মানুষকে মুগ্ধ করতে পারে৷ তবে এর জন্য নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম মেনে চলা প্রয়োজন৷

১৷ সবার আগে প্রধানত তামাক, দোক্তা, অ্যালকোহল, খৈনি, হরীতকী, পান জাতীয় খাবার বন্ধ করতে হবে৷ এই সব খাবার দাঁতের সাদা রঙ দূর করে দেয়৷ যাকে নিকোটিন স্টেন বলে৷ যা দাঁতের সাধারণ সাদা রঙকে নষ্ট করে ছোপ ফেলতে শুরু করে৷ বন্ধ করতে হবে দুধ ছাড়া চা বা কফি খাওয়াও৷ এগুলিও দাঁতের সাদা ভাবকে নষ্ট করে দেয়৷ একে বলে এ‘টারনাল স্টেন৷ অর্থাৎ বাহ্যিকভাবে বা ইচ্ছাকৃতভাবে দাঁতে ছোপ ফেলা৷ এই ধরনের ছোপ দূর করার জন্য অথবা দাঁতের সাদা রঙ ফিরিয়ে আনার জন্য দাঁতে স্কেলিং এবং পালিশ করা দরকার৷ এতে দাঁতের ছোপ চলে যাবে৷ যেকোনো ভালো দাঁতের ক্লিনিক থেকে এই ট্রিটমেন্টটি করাতে পারেন৷ এর জন্য খরচ হতে পারে ৫০০ থেকে ২৫০০ টাকা পর্যন্ত৷

২৷ অনেক সময় জন্মগত কারণেও দাঁতের সাদা রঙ নষ্ট হয়ে যেতে পারে৷ জন্মের পর বাচ্চার দাঁতের গঠনে কোনও প্রকার ত্রুটি থাকলে দাঁতের সাদা রঙ নষ্ট হতে পারে৷ এনামেল অথবা ডেন্টিংয়ের গঠনগত কোনও ত্রুটি থাকলে দাঁত বিবর্ণ হতে পারে৷ এছাড়াও বাচ্চা বয়সে কারও খুব মারাত্মক রকমের জন্ডিস হলে দাঁতের রঙ পরিবর্তন হতে পারে৷ একে ইন্টারনাল স্টেন বলে৷ এক্ষেত্রে দাঁতের সাদা রঙ ফিরিয়ে আনার জন্য দাঁতে ল্যামিনেশন করাতে পারেন৷ এতে ক্ষতিগ্রস্ত দাঁতের ওপর থেকে এনামেলের পাতলা স্তর তুলে ফেলা হয়৷ তার বদলে সেই দাঁতে কৃত্রিমভাবে এনামেলের পাতলা স্তর বসানো হয়৷ তাতে আপনার দাঁতের সাদা রঙ ফিরে পেতে পারেন, কিন্তু এক্ষেত্রে অনেক সময় নতুন দাঁতের সঙ্গে আগের দাঁতের রঙের ফারাক দেখা যায়৷ সেক্ষেত্রে সামনের দাঁত ল্যামিনেশন করলে পাশের ৬টি দাঁতকেও ল্যামিনেশন করে নিতে হবে৷ তাহলে বাকি দাঁতের সঙ্গে রঙের ফারাক বোঝা যাবে না৷

৩৷ কিছু কিছু ওষুধ আছে যা দাঁতের সাদা রঙ বদলে দিতে পারে৷ এছাড়া অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, অল্প বয়সে দাঁত সাদা থাকলেও বেশি বয়সে (৫০ বছরের বেশি) দাঁতের রঙ পাল্টে যায়৷ এক্ষেত্রে দাঁতের এনামেল ক্ষয়ে ডেন্টিং বেরিয়ে পড়ে, তখন দাঁত বিবর্ণ হয়ে যায়৷ আবার মুখে তৈরি হওয়া অ্যাসিডের প্রভাবে এনামেলগুলি দুর্বল হয়ে যায়৷ তখন ল্যাকটোব্যাসিলাস এবং এসিডোফিলাস নামক ব্যাকটেরিয়া দাঁতে বাসা তৈরি করে৷ একে ডেন্টাল ক্যারিফ বলে, যেটা দাঁতে পোকা ধরেছে বলে সাধারণ মানুষ মনে করেন৷ এর ফলে দাঁতে কালো ছোপ পড়তে শুরু করে৷ কিছু খাবারের অভ্যাস পাল্টালে এর হাত থেকে বাঁচা সম্ভব৷ যেমন, কোল্ড ড্রিঙ্কস৷ কোল্ড ড্রিঙ্কসে এক প্রকার অ্যাসিড মেশানো থাকে, যা মুখে ওই ব্যাকটেরিয়াগুলোকে বাড়তে মদত দেয়৷ আবার চানাচুর, চিপস জাতীয় খাবার খেয়ে মুখ না ধুলেও এই একই রোগ হতে পারে৷ এর হাত থেকে রক্ষা পেতে এবং দাঁতের রঙকে সাদা রাখতে সিরামিক ক্রাউন করতে পারেন৷ এই পদ্ধতিতে দাঁতকে চারদিক থেকে কেটে তার ওপর একটি গোটা দাঁতকে পেনের ক্যাপের মতো পরিয়ে দেওয়া হয়৷ এছাড়া দাঁতে মেটাল সিরামিক ক্রাউনও পরতে পারেন৷ এক্ষেত্রে দাঁতকে একটু বেশি কেটে ফেলতে হয়৷ ক্রাউন পরতে খরচ হবে প্রায় ১০-১২ হাজার টাকা৷

৪৷ দাঁতে ল্যামিনেশন এবং ক্রাউন করালে বেশ কিছু নিয়ম মেনে চলা প্রয়োজন৷ সেগুলি হলো, শক্ত খাবার খাওয়া বন্ধ করতে হবে৷ দাঁতের মধ্যে কাঠি ঢুকিয়ে খোঁচানো চলবে না৷ প্রতি ৬ মাস অন্তর ডাক্তারের কাছে চেক-আপে যেতে হবে৷

৫৷ এছাড়া দাঁত সাদা রাখার জন্য ব্লিচিং করাতে পারেন৷ এক্ষেত্রে দাঁতের মাপের ট্রে তৈরি করা হয়৷ যাতে কেমিক্যাল ভর্তি করে সেটি দাঁতে পরিয়ে দেওয়া হয়৷ এর খরচ ৬-১২ হাজার টাকা পর্যন্ত৷ এর আয়ু ৬ মাস থেকে ১ বছর পর্যন্ত৷ তারপর ফের এই ট্রিটমেন্টটি করাতে পারেন৷ তবে যাঁদের দাঁত বেশি ক্ষয়ে গেছে, তাদের দাঁতে ব্লিচিং করা উচিত নয়৷ দাঁত সুন্দর রাখার জন্য আরও কিছু নিয়ম মেনে চলা উচিত৷ যেমন, প্রতিদিন সকালে এবং রাতে শোওয়ার আগে দিনে দু’বার অবশ্যই ব্রাশ করা উচিত৷ সবসময় নরম ব্রুশের ব্রাশ ব্যবহার করা উচিত৷ কোনো ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া একদমই কোনও মেডিকেটেড পেস্ট ব্যবহার করা উচিত নয়৷ শুকনো পাউডার জাতীয় গুঁড়ো মাজন, দাঁতন এবং দাঁতে নুন-তেলের ব্যবহার অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে৷– ওয়েবসাইট।