পৃথিবীর সর্ব প্রথম হত্যাকাণ্ড

আবদুল্লাহ আল মহসিন ।।

পৃথিবীর সর্ব প্রথম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিলেন হাবিল। আপন ভাই কাবিল এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিল। এরা ছিলেন সর্বপ্রথম নবী ও মানব হযরত আদম আঃ-এর সন্তান। এই ঘটনার বিবরণ পবিত্র কোরআন ও তাওরাতে উদ্ধৃত আছে।

পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, আদমের দুই ছেলের ঘটনা তুমি তাদের যথাযথভাবে শুনিয়ে দাও। যখন তারা কুরবানী করেছিল তখন একজনের কুরবানী কবুল হল এবং অন্য জনের হল না। সূরা মায়িদা আয়াত ২৭। আয়াতে বর্ণিত দুই ছেলে হলো হাবিল, কাবিল। তাওরাতে এদের নাম কাইন ও হেবল।

যে ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুরবানী ও সর্বপ্রথম হত্যাকাণ্ড তা হলো, নিয়ম অনুযায়ী আদম আঃ-এর স্ত্রী হাওয়া আঃ-এর গর্ভে যমজ সন্তান জন্ম নিতো। প্রথমবার যমজ হলো কাবিল-আকলিমা। দ্বিতীয়বার যমজ হলো হাবিল ও গাযা। আল্লাহ তায়ালা তাদের মাঝে বিয়ের ব্যবস্থা দিলেন। প্রথম যমজ ভাই-বোন পরবর্তী যমজ ভাইবোনের মধ্যে। এই নিয়মে আকলিমাকে বিয়ে দিতে হবে হাবিলের সাথে।
Desert02
কিন্তু কাবিল এতে বেঁকে বসলো। কারণ আকলিমা ছিল সুন্দরী ও রূপবতী। আর গাযা ছিল একটু কম সুন্দর। সে আরো দাবি করলো আকলিমা আমার সাথে জন্ম গ্রহণ করেছে। তাকে বিয়ে করার অধিকার আমার বেশি। তাদের মতপার্থক্য ফায়সালা করার জন্য আদম বললেন, তোমরা কুরবানী করো। যার কুরবানী আল্লাহ তায়ালা কবুল করবেন আকলিমাকে সে বিয়ে করবে।

কাবিল মোটাতাজা ১টা দুম্বা আর হাবিল ১ আঁটি শষ্য দানা পাহাড়ের ওপর রেখে দিল। আকাশ থেকে আগুন এসে শষ্যের আঁটি জ্বালিয়ে দিল। এতে বোঝা গেলো হাবিলের কুরবানী কবুল হয়েছে। এ কারণে কাবিল আরো ক্ষিপ্ত হলো। কাবিলকে বললো, “আমি তোমাকে হত্যা করবো”। হাবিল মার্জিত ভাষায় বললো, “আল্লাহকে যারা ভয় করে তাদের কুরবানী কবুল হয়ে থাকে”।

কাবিল তখন থেকে ফন্দি আঁটতে লাগলেন কিভাবে হত্যা করবে। হত্যার নিয়ম তার জানা ছিল না।

পথে পথে সে ঘুরতে লাগলেন। একদিন দেখলেন একটি সাপ তার সামনে দিয়ে যাচ্ছে। আর এক লোক তার ওপর একটি বড় পাথর নিক্ষেপ করলেন। এতে চোখের সামনে সাপটি মারা গেলো। মূলত এ ঘটনাটি ঘটিয়েছিল ইবলিশ শয়তান। আর এতেই কাবিল শিখে নিল কিভাবে হত্যা করতে হয়।

তখন হযরত আদম আঃ ছিলেন মক্কাতে হজ্বরত অবস্থায়। এই ফাঁকে বাড়ি খালি ও নিরাপদ পেয়ে কাবিল একটি পাথর নিক্ষেপ করলো হাবিলের ওপর। আর এটি গিয়ে পড়লো হাবিলের মাথায়। মাটিতে লুটিয়ে পড়লো হাবিল। শ্বাস-নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে গেলো। পৃথিবীতে প্রথম মৃত্যু সংঘটিত হলো। ঘটনার পর পরই হতবিহবল হয়ে পড়ে কাবিল। এ যে তার আপন ভাইকে খুন করা হয়েছে! অনুশোচনা তৈরি হলো মনে। অবশেষে উম্মাদের মতো পৃথিবীর পথে পথে ঘুরেছেন। অজানা এক জায়গায় থেকেছেন, শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত।