বিশেষ প্রতিনিধি ।।
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের ছোট ভাই ও তার সহকারী একান্ত সচিব মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাই করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাত সোয়া ১টার দিকে তিনি ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ১ ছেলে ও ২ মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাই কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হক সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ছিলেন। এর পরে তিনি বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সহকারী একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের বড় ছেলে ও কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক জানান, তার চাচা আবদুল হাইয়ের শরীরে করোনার উপসর্গ দেখা দিলে গত ২ জুলাই নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এতে তার করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে।
ওই দিন রাতেই তাকে ঢাকা সিএমএইচে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১২ জুলাই থেকে তাকে ভেনটিলেশনে রাখা হয়। সেখানেই (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাতে তিনি মারা যান।
আবদুল হাই কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলায় ১৯৫৩ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মিঠামইন মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার, বিআরডিবি’র সভাপতি, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘প্রবাহ’-এর সভাপতিসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। রাষ্ট্রপতির পিতার নামে প্রতিষ্ঠিত হাজি তায়েব উদ্দিন স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং শিক্ষক ছিলেন তিনি।
এলাকার উন্নয়নে তিনি বিপুল অবদান রাখেন। তাঁর মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। ৯ ভাই বোনের মধ্যে আবদুল হাই ছিলেন অষ্টম। শনিবার (১৮ জুলাই) মিঠামইনে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাইয়ের মৃত্যুতে ঢাকাস্থ নিকলী সমিতি এবং নিকলী উপজেলাকেন্দ্রিক প্রথম অনলাইন সংবাদমাধ্যম “আমাদের নিকলী ডটকম” পরিবার গভীর শোক জানিয়েছে। সেই সাথে তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনায় সকলের কাছে দোয়া প্রার্থনা করছে।


