অতি বৃষ্টিতে কৃষকের স্বপ্ন ডুবছে নিকলী হাওরে

মোঃ নুরুল ইসলাম, বিশেষ প্রতিনিধি ।।

কিশোরগঞ্জের নিকলী হাওর অঞ্চলে টানা বৃষ্টি, দমকা হাওয়া ও ঘন ঘন বজ্রপাতের কারণে চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা। বিস্তীর্ণ হাওরজুড়ে পাকা ধান পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ফলে ফসল ঘরে তোলা নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর অনিশ্চয়তা।

সরেজমিনে উপজেলার আহাতী, সইল্লাতী, বরুইল্লা ও রইতের বন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ ধানক্ষেত ইতোমধ্যেই পানিতে নিমজ্জিত। জমিতে পানি জমে থাকায় হারভেস্টার মেশিন ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে বজ্রপাতের ঝুঁকিতে শ্রমিকরা মাঠে নামতে অনীহা প্রকাশ করায় শ্রমিক সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে।

বর্তমান বাজার পরিস্থিতিও কৃষকদের জন্য প্রতিকূল। একদিকে ধানের দাম কম—প্রতি মণ প্রায় ৮০০ টাকা, অন্যদিকে শ্রমিকের দৈনিক মজুরি গুনতে হচ্ছে প্রায় ১২০০ টাকা। এতে উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গে আয়ের অসামঞ্জস্য আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে কৃষকের দুর্ভোগ।

নিকলী উপজেলার বড়হাটি গ্রামের কৃষক উনালী মিয়া বলেন, “ধান পানিতে ডুবে যাচ্ছে, আবার শ্রমিকের খরচ ধানের দামের চেয়েও বেশি। এখন সবচেয়ে বড় চিন্তা—ধান ঘরে তুলতে পারব কি না!”

আরেক কৃষক বরজু মিয়া জানান, “বৃষ্টি ও বজ্রপাতের কারণে কাজ করা যাচ্ছে না। তার ওপর শ্রমিকের মজুরি বেশি। ঋণের বোঝা কীভাবে শোধ করব, বুঝতে পারছি না।”

কৃষক বাচ্চু মিয়া বলেন, “পাহাড়ি ঢল, টানা বৃষ্টি আর বজ্রপাত—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি খুবই খারাপ। শ্রমিকও পাওয়া যাচ্ছে না। কীভাবে বাঁচব, সেই দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে।”

বাংলাদেশ কৃষিনির্ভর দেশ হিসেবে হাওরাঞ্চলের কৃষির গুরুত্ব অপরিসীম। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, অর্থনীতি এবং গ্রামীণ জীবনযাত্রার সঙ্গে এই অঞ্চলের কৃষকের জীবন ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের রক্ষায় দ্রুত সহায়তা, প্রণোদনা এবং আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

Similar Posts

error: Content is protected !!