নিকলীতে নিখোঁজের ২৪ দিন পর মরদেহ উদ্ধার, দম্পতি গ্রেফতার

মোঃ নুরুল ইসলাম, বিশেষ প্রতিনিধি ।।

কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলায় প্রেমঘটিত সন্দেহের জেরে সংঘর্ষ থেকে এক কিশোরের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। নিখোঁজ হওয়ার ২৮ দিন পর হাওর এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ১৭ বছর বয়সী আবির হাসানের মরদেহ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ইতোমধ্যে দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

নিহত আবির হাসান উপজেলার ভাটিবরাটিয়া গ্রামের সিদ্দিক মিয়ার ছেলে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন একই গ্রামের মাহমুদুল হাসান রিয়ান (২০) এবং তার স্ত্রী কেয়া আক্তার (১৮)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকের মাধ্যমে মাহমুদুল হাসানের সঙ্গে রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ভবানীগঞ্জ গ্রামের কেয়া আক্তারের পরিচয় হয়। পরবর্তীতে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এর দু’দিন আগে, ১৭ জানুয়ারি কেয়াকে রাজশাহী থেকে নিকলীতে নিয়ে আসেন মাহমুদুল।

নিহত আবির ও মাহমুদুল ছিলেন ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং একই এলাকায় বসবাস করতেন। বন্ধুত্বের সূত্রে আবির নিয়মিত মাহমুদুলের বাড়িতে যাতায়াত করতেন। একপর্যায়ে মাহমুদুলের স্ত্রী কেয়ার সঙ্গে আবিরের সম্পর্ক নিয়ে এলাকায় গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে, যা থেকে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়।

গত ৯ মার্চ বিকেল থেকে আবির নিখোঁজ হন। সেদিন বিকেল ৩টার পর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরদিন ১০ মার্চ তার বাবা নিকলী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর গত ২ এপ্রিল (শুক্রবার) বিকেলে স্থানীয়দের মাধ্যমে হাওরের হংডাইল অংশে মোহাম্মদ শাহাবউদ্দিন মিয়ার ভুট্টাক্ষেতে একটি মরদেহ পড়ে থাকার খবর পায় নিকলী থানা পুলিশ। পরে সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কিশোরগঞ্জে পাঠানো হয়েছে।

এ ঘটনায় ৩ এপ্রিল নিকলী থানায় একটি হত্যা মামলা (নং-০৪) দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি দণ্ডবিধির ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় রুজু করা হয়।

নিকলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে মাহমুদুল হাসান ও তার স্ত্রী কেয়া আক্তারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং তদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করা হবে।

এদিকে, একটি সাধারণ প্রেমের সম্পর্ক থেকে এমন নির্মম পরিণতির ঘটনায় এলাকায় শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

Similar Posts

error: Content is protected !!