মোঃ নুরুল ইসলাম, বিশেষ প্রতিনিধি ।।
কিশোরগঞ্জের নিকলীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে হিন্দু সম্প্রদায়ের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। ছয় দিনের পূজা-অর্চনা, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, আনন্দ-উৎসব ও সাংস্কৃতিক আয়োজন শেষে বিদায় জানানো হয়েছে দেবী দুর্গাকে। উৎসবের সমাপ্তিতে ভক্তদের মাঝে নেমে আসে বিষাদের ছায়া।
বুধবার (২১ অক্টোবর) রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে নিকলী সদর উপজেলার পুরান বাজারসংলগ্ন সোয়াইজনী নদীতে হাজারো ভক্তের উপস্থিতিতে প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠিত হয়।
সন্ধ্যা থেকেই ঢাক-ঢোল, কাঁসর ও ঘণ্টার বাদ্যে মুখর হয়ে ওঠে নিকলীর বিভিন্ন এলাকা। উপজেলার বিভিন্ন মন্দির ও মহল্লা থেকে শোভাযাত্রা সহকারে প্রতিমাগুলো সোয়াইজনী নদীর তীরে নিয়ে আসা হয়। পরে নদীর মাঝখানে একে একে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। এ সময় নদীর তীরে ভক্তদের ঢল নামে। বিদায়ের মুহূর্তে কারও চোখে ছিল অশ্রু, আবার কারও কণ্ঠে ধ্বনিত হচ্ছিল দেবী দুর্গার বন্দনা।
শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দঘন মুহূর্তের অবসানে ভক্তদের হৃদয়ে ভর করে আবেগ ও বিষাদ। একই সঙ্গে সবার প্রত্যাশা—দেবীর আশীর্বাদে দূর হোক অশান্তি, বিনাশ হোক অশুভ শক্তির, প্রতিষ্ঠিত হোক শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবিকতার বন্ধন। শিউলির সুবাস, ঢাকের মায়াবী শব্দ আর বাংলার মাটির টানে ভক্তদের প্রার্থনা—সবার ঘরে ফিরে আসুক সুখ, সমৃদ্ধি ও শান্তি।
এ প্রসঙ্গে নিকলী পূজা উদ্যাপন কমিটির সভাপতি শুভ্র সাহা বলেন, “দশমীর লগ্ন শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মনে বিষাদের সূচনা হয়। মা বিদায় নিচ্ছেন, এটা ভেবে খুব কষ্ট লাগছে। মা ছিলেন বলেই আমরা আনন্দে মেতে উঠেছিলাম। মায়ের কাছে প্রার্থনা, তিনি যেন দেশের অশান্তি ও অপশক্তি দূর করে বাংলাদেশকে সবার বসবাসের উপযোগী একটি শান্তিময় দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে আশীর্বাদ করেন।”
নিকলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইশতিয়াক আহম্মেদ বলেন, “নিকলী উপজেলায় এবার মোট ১৯টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পূজা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, পূজা উদ্যাপন কমিটি, আয়োজক এবং ভক্তদের প্রতি শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। পাশাপাশি নিকলী উপজেলায় পূজাকে সার্বজনীন উৎসবে পরিণত করার ক্ষেত্রে সবার সহযোগিতা ও সম্প্রীতিপূর্ণ অংশগ্রহণের জন্য ধন্যবাদ জানাই।”
প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটলেও ভক্তদের হৃদয়ে রয়ে যায় উৎসবের স্মৃতি, সম্প্রীতির প্রত্যয় এবং আগামী বছরের অপেক্ষা। ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যের মধ্য দিয়ে নিকলীতে শারদীয় দুর্গোৎসবের এই বিদায় যেন শান্তি ও সহাবস্থানের বার্তাই ছড়িয়ে দিল।



