সংসদ নির্বাচন, কিশোরগঞ্জের ৬ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীরা

মোস্তফা কামাল ।।

বর্তমান ১০ম সংসদের নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট অংশ না নিলেও এবার অংশ নেবে বলে ঘোষণা দিয়েছে। ফলে আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচন কিশোরগঞ্জে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ১০ম সংসদ নির্বাচন বিএনপি-জামায়াত জোট বর্জন করায় কিশোরগঞ্জে ৬টি আসনের ৫টিতে আওয়ামী লীগ প্রার্থীগণ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন। একটি আসনে মহাজোটের জাপা প্রার্থী বর্তমান শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নুকে স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগের সাবেক দু’বারের এমপি ড. মিজানুল হকের বিরুদ্ধে নির্বাচন করে জিততে হয়েছিল।

বর্তমান সংসদে কিশোরগঞ্জ-১ (কিশোরগঞ্জ-হোসেনপুর) আসনের এমপি হলেন জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। কিশোরগঞ্জ-২ (পাকুন্দিয়া-কটিয়াদী) আসনের এমপি হলেন অ্যাডভোকেট সোহরাব উদ্দিন। কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল) আসনের এমপি হলেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু। কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনের এমপি হলেন রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক। কিশোরগঞ্জ-৫ (নিকলী-বাজিতপুর) আসনের এমপি হলেন আফজাল হোসেন। আর কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব-কুলিয়ারচর) আসনের এমপি হলেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন।

বিএনপি জোটগতভাবে নির্বাচন করলেও কিশোরগঞ্জের সকল আসনে কেবল বিএনপির প্রার্থীরাই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। শরিক অন্য দলগুলোর মনোনয়ন পাওয়ার মত সাংগঠনিক অবস্থা নেই। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ জোটগত নির্বাচন করলে অন্তত কিশোরগঞ্জ-৩ আসনটি গতবারের মত এবারো জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দিতে হবে বলে সবাই মনে করছেন।

২০০১ সনের ১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত অষ্টম সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জে আসন ছিল ৭টি। তখন কিশোরগঞ্জ-১ (হোসেনপুর-পাকুন্দিয়া) আসনে আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. আলাউদ্দিন আহমেদ। কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী) আসনে আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন ডা. এমএ মান্নান। কিশোরগঞ্জে-৩ (সদর) আসনে আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। কিশোরগঞ্জে-৪ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল) আসনে বিএনপি থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. এম ওসমান ফারুক। কিশোরগঞ্জ-৫ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনে আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। সেই সংসদে তিনি বিরোধী দলীয় উপনেতার দায়িত্ব পালন করেন। কিশোরগঞ্জে-৬ (বাজিতপুর-নিকলী) আসনে বিএনপি থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন মুজিবুর রহমান মঞ্জু। আর কিশোরগঞ্জে-৭ (ভৈরব-কুলিয়ারচর) আসনে আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন প্রয়াত রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান।

কিশোরগঞ্জ-১

২০০৮ সালে ৯ম সংসদ নির্বাচনের আগে সারাদেশে সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্বিন্যাসের ফলে কিশোরগঞ্জে একটি আসন কমিয়ে ৬টি করা হয়। আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কিশোরগঞ্জ-১ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামই একক প্রার্থী। কিন্তু বিএনপি থেকে প্রায় অর্ধডজন সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে। এদের মধ্যে বিএনপির সাবেক এমপি (ষষ্ঠ সংসদ) ও জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক মো. মাসুদ হিলালী, বর্তমান জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সাবেক জজ রেজাউল করিম খান চুন্নু, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিউল্লাহ রাব্বানী, বর্তমান জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল এবং সাংগঠনিক সম্পাদক হাজী ইসরাইল মিয়ার নাম শোনা যাচ্ছে। মাসুদ হিলালী দল থেকে মোট চারবার মনোনয়ন পান। তিনি ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচনে এমপি হয়েছিলেন। এরপর তিনবার সৈয়দ আশরাফের বিরুদ্ধে নির্বাচন করলেও কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরে যান। দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণেই তাকে হারতে হয়েছিল বলে মাসুদ হিলালী ও তার সমর্থকদের দাবি। এলাকার সঙ্গে সৈয়দ আশরাফের যোগাযোগ কম বলে একটি বদনাম রয়েছে। কিন্তু তিনি এলাকায় কিছু মেগা প্রকল্পের বরাদ্দ এনেছেন। ফলে এলাকার সঙ্গে সম্পর্কহীনতা আর উন্নয়ন কাজের মধ্যে এক ধরনের টানাপড়েন রয়েছে। কাজেই বিএনপিকে এসবের সঙ্গে দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে মোকাবেলা করতে হবে। এখানে জেলা গণতন্ত্রী পার্টির সভাপতি অ্যাডভোকেট ভূপেন্দ্র ভৌমিক দোলন দলের সম্ভাব্য প্রার্থী। তবে নির্বাচন মহাজোটগত নাকি দলীয় ভিত্তিতে হবে, এর ওপর নির্ভর করবে সিদ্ধান্ত। এখানে সিপিবি থেকে জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এনামুল হক দলের সম্ভাব্য প্রার্থী বলে তারা জানিয়েছেন।

কিশোরগঞ্জ-২

কিশোরগঞ্জ-২ আসনে বর্তমান এমপি অ্যাডভোকেট সোহরাব উদ্দিন আসন্ন নির্বাচনেও একজন জোরালো দাবিদার। তবে এখানে পুলিশের সাবেক আইজি নূর মোহাম্মদও আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। বিভিন্ন এলাকায় সভা-সমাবেশ ও এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে মত বিনিময় করছেন। দলের কেন্দ্রেও এ ব্যাপারে অনেকের সঙ্গে কথা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন। তিনি মনে করেন, বর্তমানে এই আসনে নেতৃত্বের বিন্যাস ও নির্বাচনী ইমেজের অর্থে তিনি মনোনয়নের জোরালো দাবিদার। অন্যদিকে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমএ আফজালও নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দল মনোনয়ন দিলে তিনিও একজন সম্ভাবনাময় প্রার্থী হয়ে উঠতে পারেন। পাকুন্দিয়া উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-আহবায়ক রফিকুল ইসলাম রেনুও গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মুখলেছুর রহমান বাদল এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ডা. দীন মোহাম্মদও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী। এখানে বিএনপি থেকে এর আগে মনোনয়ন পাওয়া ইদ্রিছ আলী ভূঁইয়া এবারো দলের মনোনয়নের জোরালো দাবিদার। পাশাপাশি পাকুন্দিয়া পৌরসভার বর্তমান মেয়র আক্তারুজ্জামান খোকন, কটিয়াদী পৌরসভার সাবেক মেয়র তোফাজ্জল হোসেন খান, পাকুন্দিয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিন, বিএনপি নেতা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আশফাক আহমেদ জুন, ছাত্র দলের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা শহীদুজ্জামান কাকন এবং বিএনপি নেতা রুহুল আমিন আকিলও মনোনয়ন দাবি করছেন। এই আসনে বিএনপির দু’বারের এমপি মেজর (অব.) আক্তারুজ্জামান একজন শক্তিশালী প্রার্থী ছিলেন। তৃণমূলে তার অনেক কর্মি-সমর্থক আছেন। কিন্তু বিভিন্ন সময় দলের হাই কমান্ডের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেয়ার ফলে দল থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। যে কারণে ২০০৮ সালের নির্বাচনে তার পরিবর্তে ইদ্রিছ আলী ভূঁইয়াকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল। তবে আক্তারুজ্জামানকেও এলাকার অনেক মানুষ আসন্ন নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে দেখতে চান। এখানে সিপিবি থেকে জেলা কমিটির সভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম এবং গণতন্ত্রী পার্টি থেকে অ্যাডভোকেট পরিতোষ চক্রবর্তীও সম্ভাব্য দলীয় প্রার্থী বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

কিশোরগঞ্জ-৩

মহাজোটগত নির্বাচন হলে কিশোরগঞ্জ-৩ আসনে আবারো জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নুকেই জোটের প্রার্থী করা হবে বলে মনে করা হচ্ছে। তিনি এলাকায় বেশ কিছু উন্নয়ন কাজ করেছেন, এখনো কাজ চলছে। এলাকার সঙ্গে তার যোগাযোগও রয়েছে। তিনি মাসে অন্তত গড়ে একবার করে আসেন। তবে এখান থেকে আওয়ামী লীগের ৫ম ও ৭ম সংসদের এমপি ড. মিজানুল হকও দলীয় মনোনয়ন চাইবেন। তিনি বর্তমান দশম সংসদের আলোচিত নির্বাচনেও মহাজোট প্রার্থী মুজিবুল হক চুন্নুর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছিলেন। কিন্তু দলীয় কর্মি বাহিনী তার পাশে না থাকায় তিনি তেমন সুবিধা করতে পারেননি। এই আসনে উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক নাসিরুল ইসলাম আওলাদ, জেলা বিএমএ সভাপতি সাবেক জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডার ডা. মাহবুব ইকবাল, মুক্তিযোদ্ধা শেখ কবীর আহমেদসহ আরো কয়েকজন আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছেন। এখানে বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ড. ওসমান ফারুক মনোনয়ন পাচ্ছেন বলে দলের অনেকেই জানিয়েছেন। তবে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম মোল্লা জানিয়েছেন, নবম সংসদ নির্বাচনে সংস্কারপন্থী ওসমান ফারুকের পরিবর্তে তাকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল। আর ওসমান ফারুকের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ ওঠায় এখন তিনি দেশান্তরি। ফলে এবারো তিনিই মনোনয়নের জোর দাবিদার বলে জাহাঙ্গীর মোল্লা জানিয়েছেন। এ লক্ষ্যে তিনি এলাকায় কাজও করে যাচ্ছেন। এখানে সিপিবি থেকে জেলা কমিটির সাবেক সভাপতি ডা. এনামুল হক ইদ্রিছ সম্ভাব্য দলীয় প্রার্থী বলে জানা গেছে।

কিশোরগঞ্জ-৪

কিশোরগঞ্জ-৪ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের জ্যেষ্ঠ পুত্র বর্তমান এমপি রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিককেই সবাই আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে মনে করছেন। তার বাবা সংসদে ডেপুটি স্পিকার এবং স্পিকার থাকার সময় থেকে এখন পর্যন্ত এলাকায় মেগা উন্নয়ন থেকে শুরু করে নানারকম উন্নয়ন কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এসব উন্নয়নে রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিকও শরিক হচ্ছেন এবং তদারকি করছেন। তিনি তার বাবার মতই সাদামাটা স্বভাবের মানুষ। তৃণমূলের মানুষের সঙ্গে সহজে মেলামেশা করার স্বভাবটা উত্তরাধিকার সূত্রে বাবার কাছ থেকে পেয়েছেন বলে এলাকায় প্রাচার রয়েছে। এই আসন থেকে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট কামরুল আহসান শাহজাহানও দলের মনোনয়ন চাইবেন বলে এ প্রতিনিধিকে জানিয়েছেন। তবে এ ব্যাপারে এখনো কেন্দ্রের সঙ্গে কোন কথা হয়নি। সময় আসলে কথা বলবেন। অন্যদিকে বিএনপি থেকে চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান আগেও এখানে নির্বাচন করেছেন। এবারও তাকে মনোনয়ন দেয়া হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এর বাইরে বিএনপির সাবেক এমপি ফরহাদ আহমেদ কাঞ্চনের ছেলে ডা. ফেরদৌস আহমেদ লাকি, ইটনা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম রতন এবং হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সাবেক ট্রাস্টি সুরঞ্জন ঘোষও মনোনয়ন দাবিদার। এছাড়া জেলা গণতন্ত্রী পার্টির সহ-সভাপতি গিয়াস উদ্দিন খান মিলকিও এখানে দলের সম্ভাব্য প্রার্থী বলে জানিয়েছেন।

কিশোরগঞ্জ-৫

কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে বর্তমান এমপি আফজাল হোসেন মনোনয়নের জোরালো দাবিদার। দুই মেয়াদে তার এলাকায় বিদ্যুতায়ন, রাস্তাঘাট নির্মাণসহ বেশ কিছু উন্নয়ন কাজ হয়েছে। তার বিপরীতে দল থেকে জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট শেখ একেএম নুরুন্নবী, জেলা কৃষক লীগের সহ-সভাপতি সাপ্তাহিক রাজধানী বার্তার সম্পাদক ফারুক আহাম্মদ, কেন্দ্রীয় ছাত্র লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাাদক অজয় কর খোকন, বাজিতপুরের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলাউল হক এবং ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিল্টনও মনোনয়ন দাবি করবেন। আর বিএনপি থেকে বাজিতপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র এহসান কুফিয়া, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল, সালেহুজ্জামান খান রুনু, ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা শফিকুল আলম রাজন ও ছাত্রদল নেতা ইশতিয়াক নাসিরসহ বেশ কয়েকজন মনোনয়ন দাবি করবেন। এদের মধ্যে মুজিবুর রহমান ইকবালের বিরুদ্ধে অন্য প্রার্থীরা একজোট বলে তাদের কেউ কেউ জানিয়েছেন। তাকে ছাড়া অন্য যে কাউকে মনোনয়ন দিলে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন। অন্যদিকে বাজিতপুরের সাবেক পৌর মেয়র এহসান কুফিয়ার বেশ জনপ্রিয়তা রয়েছে। মেয়রের দায়িত্ব পালনকালে তার তেমন কোন বদনাম নেই বলে এলাকায় প্রচার রয়েছে। এহসান কুফিয়া নিজেও আশাবাদী, তাকে মনোনয়ন দিলে হারানো আসনটি তিনি পুনরুদ্ধার করতে পারবেন। অন্য প্রার্থীরাও এলাকায় বেশ গণসংযোগ করছেন এবং সম্ভাবনাময় প্রার্থী হিসেবে নিজেদের মনে করছেন। এর বাইরে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট থেকে সাবেক পূর্ব পাকিস্তানের গভর্ণর মোনেম খানের ছেলে মুসলিম লীগের সভাপতি কামরুজ্জামান খানও জোটের প্রার্থীতা দাবি করবেন বলে জানা গেছে। এছাড়া জেলা গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদাক অ্যাডভোকেট গাজী এনায়েতুর রহমানও সম্ভাব্য প্রার্থী বলে এ প্রতিনিধিকে জানিয়েছেন।

কিশোরগঞ্জ-৬

কিশোরগঞ্জ-৬ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে বর্তমান এমপি বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনই মনোনয়ন পাবেন বলে মনে করা হচ্ছে। তবে ভৈরব পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ইফতেখার হোসেন বেনুও নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন। তার সঙ্গে স্থানীয় কয়েকজন নেতাও কাজ করছেন। অন্যদিকে বিএনপি থেকে অষ্টম সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন পাওয়া জেলা বিএনপির সভাপতি শিল্পপতি শরীফুল আলমকেই এবারো মনোনয়ন দেয়া হবে বলে সবার প্রত্যাশা। এর আগে এখানে ভৈরব উপজেলা চেয়ারম্যান গিয়াসউদ্দিনকে দুবার মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল। তবে তিনি বর্তমানে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হলেও তারও একটি গ্রুপ রয়েছে। তিনি এবারও মনোনয়ন চাইতে পারেন বলে এ প্রতিনিধিকে জানিয়েছেন। এখানে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি দুই দলই বেশ শক্তিশালী। ফলে আসন্ন নির্বাচনে একটি কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে সবাই মনে করছেন।

সূত্র : কিশোরগঞ্জের ৬টি আসনে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস  [কিশোরগঞ্জ নিউজ, ১১ ডিসেম্বর ২০১৭]