মোঃ নুরুল ইসলাম, বিশেষ প্রতিনিধি ।।
কিশোরগঞ্জের নিকলীতে উপজেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, কথিত অবৈধ নিয়োগ ও বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষি কার্ডসংক্রান্ত কার্যক্রমে স্বচ্ছতা এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া বক্তারা।
বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে নিকলী গার্লস স্কুল মোড়ে উপজেলার সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে কথিত অনিয়ম ও নিয়োগ প্রক্রিয়ার তদন্ত দাবি করেন। তারা অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যোগ্য অনেক প্রার্থী বঞ্চিত হয়েছেন। এ কারণে বিতর্কিত নিয়োগ বাতিল করে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য প্রক্রিয়ায় পুনরায় নিয়োগ দেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মানিক মিয়া। পরে তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নিয়মনীতি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি এবং রাজনৈতিক বিবেচনায় যোগ্য অনেককে বঞ্চিত করা হয়েছে। এসব অনিয়ম তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া পুনরায় সম্পন্ন করার দাবি জানান তিনি।
উপজেলার যুবদল সাবেক সভাপতি মান্নান অভিযোগ করে বলেন, তার ইউনিয়নে তথ্য সংগ্রহকারী হিসেবে নয়জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাদের অধিকাংশের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। দীর্ঘদিন রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যে থাকা অনেকেই এ সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন দাবি করে তিনি বিতর্কিত নিয়োগ বাতিল এবং স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ায় পুনরায় নিয়োগের দাবি জানান।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের সময় সাধারণ মানুষের কাছে বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রশাসনিক জটিলতা ও পক্ষপাতের কারণে অনেকেই এসব সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন রেখা আক্তার, কামরুল হাসান (স্বাধীন), সাহের উদ্দিন মেম্বার ও হাতেম আলী। এ সময় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বিএনপি ও সহযোগী অঙ্গসংগঠনের সাবেক সভাপতি, নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে নিকলী সদর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব হারুন অল কাইয়ুম উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের অনিয়ম, দুর্নীতি ও নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রতিবাদ জানান। একই সঙ্গে মানববন্ধনে উপস্থিত হয়ে কর্মসূচি সফল করায় সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
অভিযোগের বিষয়ে নিকলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেহানা মজুমদার মুক্তির সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে ফলাফল ঘোষণার পর স্থানীয় বিভিন্ন নেতাকর্মীর মধ্যে প্রশাসনের ওপর ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, নিকলী–বাজিতপুর আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচিত হওয়ায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভিন্ন বিষয়ে মতভেদ রয়েছে এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশও উত্তপ্ত। তবে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির ফলাফল প্রার্থীদের যোগ্যতা বিবেচনা করেই দেওয়া হয়েছে।
ইউএনও আরও বলেন, বাস্তবতা বিবেচনায় যোগ্য প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি উভয় পক্ষের সুপারিশের ভিত্তিতেও কিছু প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে অনুমাননির্ভর তথ্যের কারণে প্রশাসনের অনিচ্ছা সত্ত্বেও নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের দু-একজন প্রার্থী চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পেয়েছেন বলে তিনি জানান।
রেহানা মজুমদার মুক্তি বলেন, এ কারণে স্থানীয় কিছু নেতাকর্মী ঢালাওভাবে অভিযোগ করছেন যে, চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত সবাই আওয়ামী লীগপন্থী। কিন্তু বিষয়টি এমন নয়। নিকলী ছোট উপজেলা হওয়ায় এখানে মোট ৫৫ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, বিপরীতে নেতাকর্মীদের সুপারিশ ছিল অনেক বেশি। ফলে যাদের প্রার্থী বাদ পড়েছে, তাদের কেউ কেউ পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়াকে অস্বচ্ছ দাবি করে প্রতিবাদ করছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, “নিকলীবাসী যদি প্রমাণসহ নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের তালিকা দিতে পারেন, তাহলে আমরা বিষয়টি পুনরায় যাচাই করে দেখব এবং প্রয়োজন হলে তাদের বাদ দিয়ে চূড়ান্ত তালিকা পুনর্বিবেচনা করা হবে। এবার গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করেই বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে।”

