মোঃ নুরুল ইসলাম, বিশেষ প্রতিনিধি ।।
কিশোরগঞ্জের নিকলীতে জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে গণহত্যার বিচার, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই সনদ কার্যকর করার দাবিতে গণমিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১ আগস্ট) সকাল ১১টায় নিকলী নতুন বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নিকলী উপজেলা শাখার উদ্যোগে এ গণমিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নিকলী উপজেলা শাখার আমির ও জেলা শুরা সদস্য আবুল হোসেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা রফিকুল ইসলাম।
সমাবেশে বক্তব্য দেন উপজেলা শাখার সাবেক আমির ও বর্তমান কর্মপরিষদ সদস্য ইসরাফিল সরকার, সাবেক সভাপতি আবদুল কাইয়ুম, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন নিকলী উপজেলা শাখার সভাপতি মতিউর রহমান (খোকন), ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক হিমেল খান, জারুইতলা ইউনিয়ন শাখার সভাপতি ও কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা নাসির উদ্দিন (রুবেল), কারপাশা ইউনিয়ন শাখার সভাপতি ও কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা এনামুল হক (উসমানী), সাবেক সভাপতি মোঃ মতিউর রহমান, দামপাড়া ইউনিয়ন শাখার সভাপতি ও শুরা সদস্য মাওলানা সাইফুল ইসলাম, নিকলী সদর ইউনিয়ন শাখার সভাপতি ও কর্মপরিষদ সদস্য মোঃ হুমায়ুন কবির, উপজেলা যুব বিভাগের সভাপতি হাফেজ মোশাররফ, উপজেলা শুরা সদস্য মাওলানা মুসলেহ উদ্দিন (রাহমানী), ছাতিরচর ইউনিয়ন শাখার সভাপতি মোঃ হিরা মিয়া, গুরুই ইউনিয়ন শাখার সভাপতি মাওলানা ফরিদ উদ্দিন এবং সিংপুর ইউনিয়ন শাখার সভাপতি কাজী মেসবাহউদ্দিনসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
সমাবেশে উপজেলা শাখার সাবেক সভাপতি মোঃ মতিউর রহমান বলেন, “পূর্বের সংবিধান ছিল ফ্যাসিস্ট সরকারের স্বার্থরক্ষার সংবিধান। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে বহু মানুষের রক্তের বিনিময়ে দেশ দ্বিতীয়বারের মতো স্বাধীনতা অর্জন করেছে। সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে ভোট ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। জনগণের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে সংবিধান সংস্কারের অঙ্গীকার করে তা বাস্তবায়নে কোনো ধরনের টালবাহানা করা উচিত নয়।
সভাপতির বক্তব্যে আবুল হোসেন বলেন, “অনেক রক্তের বিনিময়ে দেশকে দ্বিতীয়বার স্বাধীন করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আরও ত্যাগ স্বীকার করতে হবে।” তিনি চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসসহ বিভিন্ন অনিয়ম প্রতিরোধে রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও সংবিধান সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
বক্তারা গণহত্যার বিচার, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, গণভোটের রায় কার্যকর এবং রাষ্ট্রীয় সংস্কারের দাবিতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
সমাবেশ শেষে নিকলী নতুন বাজার থেকে একটি গণমিছিল বের করা হয়। মিছিলটি নিকলীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে হাসপাতাল মোড় এলাকায় পৌঁছায়। এ সময় একজন ব্যক্তির স্লোগানকে কেন্দ্র করে মিছিলের পরিবেশ কিছুটা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে তাকে ধাওয়া দেওয়ার ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর মিছিলকারীরা নিকলী থানায় গিয়ে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

