মোঃ হেলাল উদ্দিন, বিশেষ সংবাদদাতা ।।
কিশোরগঞ্জের হাওর অঞ্চল হিসাবে খ্যাত নিকলী উপজেলা। এখানকার হতদরিদ্র মানুষ সংখ্যায় প্রায় ৪০ ভাগ; যারা দেশের বিভিন্ন ইটখলা, মিল-ফ্যাক্টরি, গার্মেন্টস ও কল-খারকানায় শ্রমিকের কাজ করেন। করোনা আতংকে সরকারি নির্দেশনায় স্ব স্ব কাজ ফেলে এসব লোকজন নিজেদের বাড়িঘরে ফিরে এসেছেন। জীবিকা নির্বাহে পরিবার নিয়ে তারা সংকটের মুখে পড়েছেন। সরকারি ত্রাণ ছাড়া এদের পাশে দাঁডানোর মতো আর কেউ নেই।
সূত্রে জানা যায়, সরকারি বরাদ্দের ত্রাণ থেকে উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের ৭ শত জন দরিদ্র মানুষকে ১০ কেজি চাল, ৫ কেজি আলু, ২ কেজি ডাল, ১টি সাবান, ১টি মাস্ক দেওয়া হচ্ছে। ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে ৮-৯ জন করে এ ত্রাণসামগ্রী পাবেন। দরিদ্র জনমানুষের চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল এ পরিমাণ। এসব হতদরিদ্র মানুষের পরিসংখ্যান করলে দেখা যাবে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ বর্তমানে নাজুক পরিস্থিতিতে দিন যাপন করছেন।
২১৪ বর্গকিলোমিটার আয়তনে ক্ষুদ্র, গুচ্ছ ও নদীর চরে ১২৮টি গ্রাম রয়েছে। সরকারি জরিপ অনুযায়ী উপজেলায় এক লক্ষ ৩০ হাজার ৩৭৯ জন মানুষ বাস করে। এছাড়া হাওরের মৌসুমি বোরো আবাদের সময় কৃষক পরিবারগুলো চাষাবাদে জমিতে বিনিয়োগ করায় অর্থনৈতিক টানাপোড়নে পড়েছে। গৃহবন্দি হাওরবাসির জন্য জরুরিভাবে পর্যাপ্ত ত্রাণ সামগ্রি প্রয়োজন।
রিকশাচালক সুমনের সাথে তার দিনকাল কেমন যাচ্ছে এ নিয়ে কথা হলে জানান, অতিকষ্টে আছি ভাই। রাস্তাঘাটে মানুষ নাই। প্রতিদিন পরিবার খরচ ৪ শত টাকা। কিভাবে সংসার চালাবো বুঝতে পারছি না। তার কণ্ঠে ছিল নিরব কান্না।
নিকলী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এএম রুহুল কুদ্দুস ভূঞা জনির সাথে ত্রাণ নিয়ে কথা হলে তিনি এ প্রতিনিধিকে বলেন, সরকার প্রদত্ত ত্রাণের যথেষ্ট পরিমাণ নয়। আমরা ৭ শত মানুষকে ত্রাণ দিয়েছি। সরকারের উচ্চমহলের সাথে যোগাযোগ করে যাচ্ছি যাতে নিকলী উপজেলার জন্য ত্রাণের বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়।


