
নিজস্ব প্রতিনিধি ।।
রাজধানীর “দনিয়া পাঠাগার”-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত বর্ণ অংকণ প্রতিযোগিতায় “ক” গ্রুপে (প্লে) পুরস্কৃত হয়েছে কারার আদ্রিতা নূর। ৬০টি স্কুল থেকে এই প্রতিযোগিতায় শিশু শ্রেণী থেকে ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত মোট ৬টি বিভাগে ১৮৬ জন প্রতিযোগীকে এই সংগঠনটি পুরস্কৃত করেছে।
কারার আদ্রিতা নূর রাজধানীর শনির আখড়ার ইকরা মডেল স্কুল এন্ড কলেজের প্লে শ্রেণীর ছাত্রী। তার বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলার নিকলী উপজেলা সদরের কারার বাড়িতে। তার বাবা কারার মাসুদ পারভেজ একটি বেসরকারি সংস্থায় হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত। মা সানজিদা পারভেজ শিল্পী গৃহিণী।
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে ২৪ মার্চ আয়োজিত পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে এসে নিকলীর খুদে আঁকিয়ে কারার আদ্রিতা নূর জানালো তার ভবিষ্যত পরিকল্পনার কথা। “আমি বড় হয়ে আর্মি অফিসার হতে চাই। তোমরা দোয়া করো।” বাবার সাথে অংশ নিতে আসা আদ্রিতার চেহারায় তখন দীর্ঘ অনুষ্ঠান উপভোগের ক্লান্তির ছাপ। তবু এতটুকু হাল ছাড়তে নারাজ। এত এত আঁকিয়েকে টপকে ১৪তম হয়ে পুরস্কারের মঞ্চ না ছুয়ে কী ফেরা যায়! নিকলী উপজেলা কেন্দ্রিক প্রথম অনলাইন সংবাদমাধ্যম আমাদের নিকলী ডটকম এবং ঢাকাস্থ নিকলী সমিতির পক্ষ থেকে আদ্রিতার জন্য অনেক শুভ কামনা।

দনিয়া পাঠাগারের সাহিত্য সাংস্কৃতিক সম্পাদক মইনুল হক জানান, ২০০৪ সাল থেকে সংগঠনটি প্রতি বছর ভাষার মাস ফেব্রুয়ারিতে শিশুদের নিয়ে বর্ণ অংকণ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে আসছে। এটি একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। ভাষা আন্দোলন ও ভাষা সম্পর্কে নতুন প্রজন্মের মাঝে স্বচ্ছ ধারণা দেয়ার উদ্দেশ্যে তারা এই আয়োজন করে থাকেন। এ বছর ৬০টি স্কুল থেকে ৪৫৮৫ জন প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে ১৮৬ জনকে পুরস্কৃত করা হয়েছে।
পাঠাগারের অন্যতম উদ্যোক্তা মইনুল আরো বলেন, প্রতিযোগিতার প্রাথমিক আয়োজন প্রত্যেকের নিজ নিজ স্কুলে অনুষ্ঠিত হয়। সেখানের প্রাপ্ত অংকণ থেকে গ্রুপভিত্তিক যাচাই-বাছাই করে পুরস্কারের জন্য নির্বাচন করা হয়। প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম থেকে প্রতিযোগিতার কার্যক্রম শুরু হয়। মার্চ মাসের পুরস্কার প্রদানের মধ্য দিয়ে দুই মাসব্যাপী চলতে থাকা আয়োজনের সমাপ্তি হয়। এবারের পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে শিশুদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন গ্রুপ থিয়েটারের ঝুনা চৌধুরী।


