মাহমুদ আল আজাদ, হাটহাজারী প্রতিনিধি ।।
দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববহৎ প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদী। এ নদীতে চৈত্র-বৈশাখ মাসে রুই, কাতলা মৃগেল ও কার্প জাতীয় মা মাছ ডিম ছাড়ে। চৈত্র মাসে হালদা নদীতে ছাড়া ডিম খুবই উৎকৃষ্ট। এ ডিমের পোনা দ্রুত বর্ধনশীল। বাংলা বছরের শেষ মাস থেকে বিশেষ করে ফাল্গুন মাসের শেষ দিকে সাংগু, মাতামুহুরী, কর্ণফুলীসহ বিভিন্ন শাখা নদী ও খাল থেকে মা মাছ হালদা নদীতে চলে আসে।
প্রতি বছরের মতো এবারও মা মাছগুলো হালদা নদীতে এসেছে। মাছের পেটভর্তি ডিম মা মাছের আনাগোনা বেড়েছে। ডিম দেয়ার পরিবেশ ঠিক থাকলে থাকলে আগামী জো’তে রুই জাতীয় মাছ ডিম ছাড়বে হালদা নদীতে। ইতোমধ্যে ডিম ধরার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে হাটহাজারী উপজেলার ডিম আহরণকারীরা। প্রজনন মৌসুমে হালদা নদীতে ড্রেজার ও ইঞ্জিনচালিত মালবাহী বোট চলাচলের ওপর নিষিদ্ধ থাকার পরও নদী থেকে বালি উত্তোলন করছে অবাধে। এতে করে মা মাছ ড্রেজারের আঘাতে মারা যেতে পারে এবং মা মাছ চলাচলে বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
ডিম আহরণকারীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, চলতি ১০ এপ্রিল থেকে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত ১০ দিন অমাবশ্যার জো রয়েছে। পরিবেশ ঠিক থাকলে যে কোন দিন হালদায় ডিম দিতে পারে রুই জাতীয় মা মাছ। আর যদি এ সময়ে ডিম না দেয় তাহলে আগামী ২৫ এপ্রিল থেকে ৫ মে পর্যন্ত পূর্ণিমার জোতে ডিম দেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রত্যেক বছর ডিম আহরণকারীরা ফাল্গুন মাস থেকে ডিম আহরণের সরঞ্জাম নিয়ে প্রস্তুত থাকে। এবারও ডিম আহরণকারীরা ইতোমধ্যেই তাদের যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। হালদা থেকে ডিম সংগ্রহ করতে মাটির কূয়া, নৌকা, জাল, বড় পাতিলসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে প্রস্তুত রয়েছে ডিম আহরণকারীরা। তারা প্রহর গুনছে আকাশে কখন মেঘের গর্জন ও ভারি বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢল নামবে। এগুলো হলে নদীতে রুই জাতীয় মা মাছ ডিম দেবে।
হাটহাজারী গড়দুয়ারা এলাকার ডিম আহরণকারী কামাল উদ্দিন সওদাগর বলেন, প্রতি বছরের মত এবারও ডিম আহরণ করার জন্য আমরা প্রস্তুত রয়েছি।
জোয়ার-ভাটার এ নদী হালদা যেখান থেকে রুই জাতীয় মাছের ডিম সংগ্রহ করা হয়। হাটহাজারী রাউজান উপজেলার সীমানা দিয়ে বয়ে যাওয়া হালদা নদীতে স্মরণাতীত কাল থেকে প্রতি বছর চৈত্র-বৈশাখ মাসে ডিম ছাড়ে মা মাছ। নদী থেকে বছরের পর বছর ডিম সংগ্রহ করে তা থেকে রেণু ফুটিয়ে বিক্রি করে আর রেণুর আয় দিয়ে পুরো বছর জীবিকা নির্বাহ করে আহরণকারীরা।


