তুহিন হত্যা : এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে বাকি দুই আসামি

মাহমুদ আল আজাদ, হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি ।।

হাটহাজারীতে তাসনিম সুলতানা তুহিন (১৩) হত্যাকাণ্ডের প্রধান ঘাতক আটক হলেও বাকি ২ আসামি এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় হাটহাজারীর স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ছাত্রছাত্রীসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। টানা ২দিন আন্দোলন, মানববন্ধন করলেও কোনো আসামি ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় আবারো বুধবার (১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮) সকাল দশটায় উপজেলা পরিষদের সামনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ হাটহাজারী শাখার ব্যানারে তুহিনের হত্যাকারী শাহনেওয়াজ মুন্নার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে। উক্ত মানববন্ধন বক্তারা বলেন, ইতিমধ্যে আমরা দেখতেছি মুন্নাকে জামাই আদরে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে। তার দেয়া স্বীকারোক্তি নাকি কোন শিখানো উক্তি। আমরা সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রশাসনের মাধ্যমে তার ফাঁসি নিশ্চিত করতে হবে।

উপজেলা ছাত্র জমিয়তের সভাপতি মাওলানা ফোরকান আলীর সভাপতিত্বে উপজেলা জমিয়তের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা এমরান সিকদার, যুগ্ম সম্পাদক, হাটহাজারী গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের সম্মানিত শিক্ষক, মাওলানা নিজাম সাইয়েদ-এর সঞ্চালনায়, ছাত্র জমিয়তের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহীম খলিলুল্লাহ হাটহাজারী পার্বতী মডেল স্কুল এন্ড কলেজের সাবেক প্রধান শিক্ষক, সংবাদিক আতাউর রহমান মিয়া, হাটহাজারী গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের সম্মানিত সিনিয়র শিক্ষক, মোঃ হোসেন, ছাত্রনেতা সাইফুর রহমান, মুহাম্মদ দিদার রুহী, হাটহাজারী সরকারি কলেজের ছাত্র মুহাম্মদ ফরহাদ প্রমুখ।

এদিকে সকালে পৌনে এগারোটায় একই স্থানে শাহজালাল পাড়া ও কামালপাড়া এলাকাবাসী তুহিন হত্যাকারী ঘাতক মুন্নার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীকে প্রত্যাখ্যান করে বলেন, এটা আরেকটি ষড়যন্ত্র। স্কুল শিক্ষার্থী তুহিনকে নিয়ে মুন্না যে স্বীকারোক্তি দিয়েছে তা ভুয়া, মিথ্যা ও বানোয়াট। মুন্নাকে বাঁচানোর জন্য একটি গোষ্ঠি নানান প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। মুন্নাকে দিয়ে সাজানো নাটকের স্বীকারোক্তি দিয়েছে। আমরা চাই এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা প্রশাসনের মাধ্যমে সুষ্ঠু তদন্ত করে যেন তুহিনের পরিবার তথা হাটহাজারীবাসী ন্যায়বিচার পায়। অন্যথায় জনগণ কাউকে ছাড় দিবে না। তুহিন হত্যাকাণ্ডের বাকি ২ আসামি এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় পুলিশের অবহেলাকে দায়ী করেন তারা। মানববন্ধন শেষে এলাকাবাসী শাহজালাল পাড়া ও কামালপাড়া এলাকাবাসীর ব্যানারে সদর বাসস্টেশন জিরো পয়েন্ট মিছিল নিয়ে যেতে চাইলে পুলিশি বাঁধায় যেতে পারেনি।

এদিকে একই দিনে সংযুক্ত আরব আমিরাত শাখার হাটহাজারী সমিতির ব্যানারে হাটহাজারী কলেজ ছাত্রছাত্রীরা দুপুর ১২টায় মানববন্ধন ও র‌্যালি বের করলে কলেজের প্রধান ফটক থেকে বের হলে পুলিশ গিয়ে বাঁধা দেয়। এসময় পুলিশ ও ছাত্রদের মধ্যে কিছুক্ষণ বাকবিতণ্ডা হয়। সেখানেই পুলিশের সামনে মুন্নাকে ফাঁসি দিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে। এক পর্যায়ে থানার ওসি বেলাল উদ্দিন জাহাঙ্গীর পৌরসভার ছাত্রলীগ নেতা মোঃ শাহেদসহ কিছু ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের আশ্বাসে তারা ক্লাসে ফিরে যায়।

মানববন্ধন করতে না পারায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ছাত্রছাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, দাবি আদায়ের জন্য সড়কে মানববন্ধন করে প্রতিবাদ জানাতেও দিচ্ছে না আমাদের। আমার বোন তুহিনের নির্মম এ হত্যাকাণ্ডের পরও এখনো বাকি ২ আসামিকে পুলিশ ধরতে পারেনি। কি কারণে এমন হচ্ছে তা আমরা জানতে চাই। অপরাধীকে আড়াল করতে কারা এতে কলকাঠি নাড়ছে হাটহাজারীবাসীর কাছে পরিষ্কার করে তাদের মুখোশ উন্মোচন করে দিতে হবে।

পরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মডেল থানার ওসি বেলাল উদ্দিন জাহাঙ্গীর বলেন, অপরাধী আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দীতে খুনের কথা স্বীকার করেছে। তার অপকর্মের শাস্তি সে পাবে। বাকি ২ আসামিকে আটক করতে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে। তিনি আরো বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের সাথে আর কেউ জড়িত আছে কিনা তা তদন্ত করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অপরাধী যেই হোক আইনের কাছ থেকে কেউ ছাড় পাবে না। তুহিন হত্যার ন্যায়বিচার পাবে বলেও তিনি গণমাধ্যম কর্মীদের জানান।

Similar Posts

error: Content is protected !!