ত্রাণের টাকা আত্মসাৎ: থাইল্যান্ডের সাবেক মিস ইউনিভার্স গ্রেপ্তার

আমাদের নিকলী ডেস্ক ।।

দাতব্য তহবিলের বিলিয়ন বাথ বা কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ ও বিলাসবহুল বাড়ি কেনার অভিযোগে থাইল্যান্ডের সাবেক মিস ওয়ার্ল্ড খ্যাত ‘মিস থাইল্যান্ড ২০০০’ ও জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা পানাডা ‘বুম’ অংফুডিকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ। থাইল্যান্ডের অর্থনৈতিক অপরাধ দমন বিভাগ (ইসিডি) শুক্রবার ভোরে রাজধানী ব্যাংককের বুয়েং কুম এলাকা থেকে তাকে হেফাজতে নেয়।

ব্যাংককের সেন্ট্রাল ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (সিআইবি) কার্যালয়ে নেওয়ার সময় সংবাদকর্মীদের মুখোমুখি হয়ে কেঁদে ফেলেন ৫০ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী ও উপস্থাপিকা। হাত জোড় করে ঐতিহ্যবাহী থাই কায়দায় ক্ষমা চেয়ে তিনি বলেন, “আমি আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে প্রস্তুত। সবাইকে হতাশ করার জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত।”

তদন্তকারী কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, পানাডার পরিচালিত ‘ডু গুড অর্গানাইজেশন ফাউন্ডেশন’-এ সংগৃহীত প্রায় ১ বিলিয়ন বাথ (আনুমানিক ৩০০ কোটি টাকা) আত্মসাৎ ও পাচারের প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে। দাতব্য কাজের উদ্দেশ্যে দেশ-বিদেশের সাধারণ মানুষ ও তারকাদের দেওয়া অনুদানের অর্থ পানাডা ও তার স্বামী গতিফ অনান্তওয়ান নিজেদের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে সরিয়ে নিয়ে ব্যাংককসহ বিভিন্ন স্থানে বিলাসবহুল সম্পত্তি ও গাড়ি কেনেন।

ঘটনার পর পুলিশ পানাডার বাসভবন, তার স্বামীর প্যাথুম থানি এলাকার বাড়ি এবং ফাউন্ডেশনের কার্যালয়সহ ৪টি স্থানে অভিযান পরিচালনা করেছে। তল্লাশিতে ১০০ মিলিয়ন বাথেরও বেশি সমপরিমাণ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, প্রসংগভিত্তিক নগদ টাকা, ১৭টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং বেশ কয়েকটি দামি গাড়ি জব্দ করা হয়েছে। এই জালিয়াতিতে সম্পৃক্ততার অভিযোগে তার স্বামী, ফিটনেস ইনফ্লুয়েন্সার গতিফকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

থাইল্যান্ডে বন্যাসহ যেকোনো জাতীয় দুর্যোগে পানাডা ও তার সংগঠন সবসময় ত্রাণ নিয়ে এগিয়ে আসত। ফলে তারকা হিসেবে ভক্ত ও দানশীলদের বিশ্বাস অর্জন করা তার জন্য সহজ ছিল। তবে সম্প্রতি একটি গুদামে তল্লাশি চালিয়ে দেখা গেছে— মানুষের দেওয়া ত্রাণসামগ্রী, খাদ্য ও কাপড় বণ্টন না করে জমিয়ে রাখা হয়েছিল, যা সাধারণ মানুষের ক্ষোভকে আরও বাড়িয়ে দেয়। পাবলিক ফ্রড, মানি লন্ডারিং এবং কম্পিউটার ক্রাইম অ্যাক্টে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এই ঘটনা কেবল থাইল্যান্ডেই নয়, সমগ্র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বড় আলোড়ন তৈরি করেছে। কারণ, বাংলাদেশের মতো থাইল্যান্ডেও সামাজিক দায়বদ্ধতা, ধর্মীয় বিশ্বাস ও মানবসেবার জায়গা থেকে সাধারণ মানুষ তারকাচালিত বিভিন্ন ফাউন্ডেশনে বিপুল অর্থ অনুদান দিয়ে থাকেন। এই ঘটনা প্রমাণ করল— যথাযথ নজরদারি না থাকলে কীভাবে দাতব্য ট্রাস্টগুলো তারকাদের ব্যক্তিগত প্রভাব ও দুর্নীতির হাতিয়ারে পরিণত হতে পারে।

এই নজিরবিহীন জালিয়াতির পর থাই প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল দেশজুড়ে নিবন্ধিত সকল দাতব্য ফাউন্ডেশন পুনর্নিরীক্ষণ ও অডিট করার নির্দেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটেও এমন সংবাদ একটি বার্তা দেয় যে— কেবল তারকা খ্যাতি দেখে প্ররোচিত না হয়ে, যেকোনো ফাউন্ডেশন বা সংস্থাকে অনুদান দেওয়ার আগে সেটির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা যাচাই করা জরুরি।

তথ্যসূত্র: Hindustan Times