এবার দুভাগে ভাগ হয়ে যাচ্ছে ব্ল্যাক হোল! নতুন গবেষণা

আমাদের নিকলী ডেস্ক ।।

কখনো ভেবেছেন একটি ব্ল্যাক হোল ভেঙে দুটি নতুন ব্ল্যাক হোল তৈরি হতে পারে? আইনস্টাইনের তত্ত্বের বাইরে গিয়ে বিজ্ঞানীরা বলছেন, ছোট আকারের কৃষ্ণগহ্বরগুলো নির্দিষ্ট শর্তে বিভাজিত হতে পারে। মহাবিশ্বের এই অভিনব ঘটনা সম্পর্কে জানতে চোখ রাখুন পুরো প্রতিবেদনে:

কোষ বিভাজনের মতো এবার কৃষ্ণগহ্বর বা ব্ল্যাক হোলেরও দুভাগে বিভক্ত হওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন গবেষকরা। সম্প্রতি ‘ফিজিক্যাল রিভিউ ডি’ জার্নালে প্রকাশিত এক নতুন গবেষণায় বলা হয়েছে, অত্যন্ত দ্রুত ঘূর্ণনের ফলে কৃষ্ণগহ্বর বিভাজিত হতে পারে। যদিও এই ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম, তবুও তাত্ত্বিকভাবে এটি সম্ভব।

ইউনিভার্সিটি অব নেপলসের গবেষক ও এই গবেষণার সহ-লেখক ফ্রান্সেস্কো সানিনো এক বিবৃতিতে বলেন, “আমাদের গবেষণায় আমরা খতিয়ে দেখেছি কোন শারীরিক নিয়মগুলো সাধারণত একটি কৃষ্ণগহ্বরকে দুভাগে বিভক্ত হতে বাধা দেয় এবং কোন বিশেষ পরিস্থিতিতে এই বিভাজন ঘটা সম্ভব।”

বিজ্ঞানীরা সাধারণত ব্ল্যাক হোলের একে অপরের সঙ্গে মিশে যাওয়ার কথা শুনে অভ্যস্ত। তবে ব্ল্যাক হোলের বিভাজন বেশ জটিল এক বিষয়। এই গবেষণার মূল ভিত্তি হলো এনট্রপি বা বিশৃঙ্খলার পরিমাপ। মহাবিশ্ব সবসময় বিশৃঙ্খলার দিকে এগিয়ে যায়, যেমনটা দেখা যায় কোনো জিনিস নষ্ট হয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে।

গবেষকরা দেখেছেন, কোনো কৃষ্ণগহ্বর যদি ঘুরতে না থাকে এবং তা যদি বিভক্ত হতে চায়, তবে এর এনট্রপি বা বিশৃঙ্খলা কমে যেতে হবে। কিন্তু পদার্থবিজ্ঞানের নিয়মে এটি অসম্ভব।

এই প্রতিবন্ধকতায় পড়ে গবেষকরা দেখতে চেয়েছিলেন অত্যন্ত দ্রুত গতিতে ঘুরলে কৃষ্ণগহ্বরের কী অবস্থা হয়। তারা দেখতে পান, একটি বিশেষ উপায় বা ‘লুপহোল’ রয়েছে। যখন একটি কৃষ্ণগহ্বর তার সর্বোচ্চ সম্ভব গতিতে ঘোরে, তখন এর ইভেন্ট হরাইজন বা অবধারিত সীমানাটি প্যান্টের মতো আকার ধারণ করে এবং স্পেসটাইম বা দেশকালের দুটি আলাদা নলের ভেতর দিয়ে দুটি পৃথক ব্ল্যাক হোল হিসেবে বেরিয়ে আসে।

তবে শর্ত হলো, কৃষ্ণগহ্বরটিকে এর সর্বোচ্চ সম্ভাব্য গতিতে ঘুরতে হবে। এর চেয়ে গতি কম হলে নবগঠিত কৃষ্ণগহ্বর দুটি আলাদা হওয়ার পরিবর্তে আবার একীভূত হয়ে যেত। সানিনো জানান, “দুটি নতুন ব্ল্যাক হোলকে পরস্পরের সঙ্গে আবার মিশে না গিয়ে আলাদা হয়ে যাওয়ার মতো পর্যাপ্ত দূরুত্ব বজায় রাখতে হয়। এই শর্ত যোগ করলে বিভাজনের সম্ভাবনা আরও সীমিত হয়ে পড়ে, কেবল সর্বোচ্চ গতিতে ঘোরার সময় ছাড়া।”

যদিও গবেষকরা প্রমাণ করেছেন যে এটি সম্ভব, তবুও এই ঘটনার নির্দিষ্ট কোনো সম্ভাবনার কথা এখনই বলা সম্ভব নয়। সানিনোর মতে, এটি নির্ভর করে আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিকতার বাইরে মহাকর্ষ কীভাবে কাজ করে তার ওপর। আর তা পরিমাপ করতেই কাজ করছেন গবেষকরা।

বিজ্ঞানীদের মতে, গামা-রে টেলিস্কোপের মাধ্যমে এই ধরনের বিভাজনের ঘটনা শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে। তবে দানবাকৃতির কোনো ব্ল্যাক হোল নয়, এই বিভাজন মূলত ছোট আকারের কৃষ্ণগহ্বরগুলোর ক্ষেত্রেই ঘটার সম্ভাবনা বেশি।

তথ্যসূত্র: Futurism