মাহমুদ আল আজাদ, হাটহাজারী প্রতিনিধি ।।
অজ্ঞাত এক উগ্রবাদী জঙ্গীগোষ্ঠী ব্রিটেনের বিভিন্ন বাড়িতে মুসলিমদের ওপর নির্যাতনের জন্যে চিঠি বিলি করেছে। ওই চিঠিতে পরমাণু বোমা মেরে মক্কা শরিফ উড়িয়ে দিতে পারলে পুরস্কার দেয়া হবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে। এছাড়া আগামী ৩ এপ্রিল (পানিশ অ্যা মুসলিম ডে) মুসলিম নির্যাতন দিবস পালনের আহ্বান জানিয়েছে অজ্ঞাত ওই উগ্রবাদী জঙ্গীগোষ্ঠী। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমীর শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী ও মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী।
হেফাজত নেতৃদ্বয় বলেন, বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের ওপর চলছে ভয়াবহ জুলুম ও নির্যাতন। মুসলমানগণ এর প্রতিরোধ করলেই তাদেরকে বলা হচ্ছে জঙ্গী বা সন্ত্রাসী। চিঠির মাধ্যমে আহ্বান জানিয়ে মুসলমানদেরকে হত্যার পরিকল্পনা যথেষ্ট নিন্দনীয়। এ কাজ যেই করুক না কেন, আমরা এর সার্বিক তদন্ত সাপেক্ষে তাদেরকে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি। এ ধরনের সহিংসতার লাগাম টেনে না ধরলে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসতে পারে বলে আশংঙ্কা করছেন হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ এই দুই নেতা।
লিফলেট ও চিঠি
উল্লেখ্য, ওই চিঠিতে মুসলমানদের ওপর বিভিন্ন নির্যাতনের জন্যে ১০ থেকে আড়াই হাজার পর্যন্ত পয়েন্ট জিতে নেয়ার আহ্বান করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পয়েন্ট দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে, পরমাণু বোমা মেরে মক্কা শরিফ উড়িয়ে দেবার ক্ষেত্রে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, মৌখিকভাবে লাঞ্ছিত করলে ১০ পয়েন্ট, মুসলিম নারীদের হিজাব বা স্কার্ফ খুলে নিতে ২৫, অ্যাসিড ছুঁড়ে মারলে ৫০, পেটালে ১০০, ইলেকট্রনিক্স বা অন্য কোনো যন্ত্র দিয়ে নির্যাতন করলে ২৫০, বন্দুক, ছুরি, গাড়ি বা অন্য কিছু দিয়ে হত্যা করলে ৫০০, মসজিদে বোমা মারলে বা পুড়িয়ে দিলে ১০০০ এবং পরমাণু বোমা হামলা করে পবিত্র মক্কা শরিফ ধ্বংস করলে ২৫০০ পয়েন্ট দেয়া হবে।
নেতৃদ্বয় বলেন, বাংলাদেশ সরকারের উচিত, ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাজ্য রাষ্ট্রদূতকে ডেকে বিষয়টি জোরালোভাবে তদন্তের দাবি জানানো। কেননা এসব প্রতিহিংসামূলক কর্মকাণ্ডের ফলাফল কখনো শুভনীয় হয় না। সন্ত্রাসী যে-ই হোক না কেন তাকে আইনের আওতায় এনে শাস্তি না দিলে অপরাধের মাত্রা দিন দিন বৃদ্ধি পাবে। কাজেই সময় থাকতে সতর্কতা অবলম্বন না করলে মহাবিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।








