আমাদের নিকলী ডেস্ক ।।
ছোটপর্দার নাটকে নতুন জুটি হিসেবে দর্শকের নজর কাড়ছেন অভিনেতা খায়রুল বাসার ও অভিনেত্রী সাদনিমা বিনতে নোমান। অল্প সময়ের মধ্যে একাধিক নাটকে পাশাপাশি অভিনয় করে তারা এখন দর্শকের পছন্দের জুটির তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন।
“গোল্ডফিশ” নাটকে প্রথম জুটি বাঁধেন তারা। এরপর “বই পোকা”, “ভটভটি” ও “মনডুবি”তেও একসঙ্গে দেখা যায় দুজনকে। তবে জুটি হিসেবে আলোচনার কেন্দ্রে আসেন সেরনিয়াবাত শাওনের পরিচালনায় “কাছের কেউ” নাটকে। এটিই তাদের প্রথম কোটি ভিউয়ের কাজ। একই পরিচালকের “তোমার ঠিকানায়” নাটকটি পাঁচ দিনের মধ্যে কোটি ভিউ ছুঁয়েছে। নাটক দুটি হিয়া এন্টারটেইনমেন্টের ইউটিউব চ্যানেলে দেখা যাচ্ছে।
উৎসবের নাটকেও এই জুটিকে পাওয়া গেছে। গত ঈদুল ফিতরে সোহেল রাজের পরিচালনায় প্রচারিত “ছায়াসঙ্গী”তে খায়রুল বাসার একজন ভাড়াটে খুনির চরিত্রে অভিনয় করেছেন। তার পরবর্তী লক্ষ্য সাদনিমার চরিত্র, আর সেই লক্ষ্যের প্রেমে পড়ে যান তিনি। পরিচালকের ভাষ্য, নাটকের অ্যাকশন দৃশ্যগুলো খায়রুল ডামি ছাড়াই নিজে করেছেন।
এর আগে ঈদুল আজহায় প্রচারিত “বই পোকা”ও ভিন্ন গল্পের কারণে আলাদা করে প্রশংসা পেয়েছে। তপু খানের পরিচালনায় নাটকটি লিখেছেন লিমন আহমেদ, গল্পভাবনা আকবর হায়দার মুন্নার। সেখানেও পর্দায় দুজনের রসায়ন দর্শকের নজর কেড়েছে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া “জলকৌড়ি” নামের আরেকটি নাটকের শুটিংয়েও একসঙ্গে কাজ করেছেন তারা।

সাদনিমা সম্প্রতি দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, এক মাসের মধ্যে তার সাতটি নাটক প্রকাশ পেয়েছে, যেগুলো সবই দর্শকের মনোযোগ পেয়েছে। তার মতে, দুই-তিনটি নাটকের পর খায়রুল বাসারের সঙ্গে জুটি নিয়ে দর্শকের কৌতূহল বেড়েছিল। সেই আগ্রহ দেখেই নির্মাতারা ধারাবাহিকভাবে তাদের একসঙ্গে কাজে নিয়েছেন। জুটি গড়ার পেছনে নির্মাতারা মূলত দর্শকের ভালো লাগাকেই বিবেচনায় রাখেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জুটির সাফল্যের কারণ জানতে চাইলে খায়রুল বাসার একটি সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন, পরপর দুটি কাজ এতটা পছন্দ হবে, তা তিনি ভাবেননি। তার বিশ্বাস, দর্শক আসলে ঠিকঠাক একটি গল্প দেখতে চান। গল্প ও সংলাপ ভালো হলে এবং দুজন শিল্পী নিজ নিজ জায়গা থেকে দৃশ্যটি বুঝে অভিনয় করলে কাজটি দাঁড়িয়ে যায়।
খায়রুল বাসার ইতিমধ্যে ছোটপর্দায় পরিচিত মুখ। এর আগে তানজিন তিশা, রোকাইয়া জাহান চমকসহ আরও কয়েকজন অভিনেত্রীর সঙ্গে জুটি বেঁধে তিনি নাটক করেছেন। সাদনিমার সঙ্গে তার এই নতুন জুটি অল্প সময়ে যে সাড়া পেয়েছে, তা প্রচারসংখ্যাতেও স্পষ্ট।
নাটকপাড়ার অভিজ্ঞদের মতে, জুটির জনপ্রিয়তা টিকিয়ে রাখতে হলে চরিত্র ও গল্পে বৈচিত্র্য আনা জরুরি। এক ধরনের চরিত্রে বারবার দেখা গেলে দর্শকের আগ্রহ কমে যেতে পারে। সেদিক থেকে “ছায়াসঙ্গী”র মতো ভিন্ন ধাঁচের গল্পে কাজ করা তাদের জন্য ইতিবাচক বলে মনে করা হচ্ছে।

খায়রুল বাসার কিশোরগঞ্জের সন্তান। একটি আলোচিত ফেসবুক পোস্টে তিনি নিজেকে ওই মাটির সন্তান বলে উল্লেখ করেছেন। পড়াশোনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগে। অভিনয়ে হাতেখড়ি ২০১১ সালে, মূকাভিনয় দিয়ে। পরিবার চেয়েছিল তিনি চাকরি করুন, কিন্তু তিনি অভিনয়কেই পেশা হিসেবে বেছে নেন। অভিনয়ের পাশাপাশি নিয়মিত কবিতা লেখেন, ডায়েরিতে ও ফেসবুকে। ঈদের কয়েক দিন আগেই শুটিং থামিয়ে বাড়ি ফেরেন, ছুটি কাটান পরিবারের সঙ্গে।
সাদনিমা বিনতে নোমান-এর জন্ম চট্টগ্রামে। অল্প বয়সে পরিবারের সঙ্গে ঢাকায় চলে আসেন, শৈশব থেকেই থাকেন উত্তরায়। প্রায় দেড় যুগ আগে একটি বিজ্ঞাপনচিত্রে শিশুশিল্পী হিসেবে তার অভিষেক। সেই সূত্রে “গোল্ডফিশ” নাটকে হঠাৎ প্রস্তাব পেয়ে বড় হয়ে ওঠেন টিভি নাটকের পরিচিত মুখ হিসেবে। মধ্যবিত্ত পরিবারে বড় হওয়া এই অভিনেত্রী বলেন, খ্যাতির পরও জীবনযাত্রায় বদল আসেনি; এখনো বন্ধুদের সঙ্গে পুরোনো টংদোকানেই আড্ডা দেন।
আপাতত দর্শকের চাহিদা ও নির্মাতাদের আগ্রহ দুটোই এই জুটির পক্ষে। সামনে আরও কাজে তাদের একসঙ্গে দেখা যাবে কি না, সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা।
তথ্যসূত্র: প্রথম আলো, বিডিনিউজ২৪, আইটিভি বিডি, সমকাল, ইত্তেফাক








