আমাদের নিকলী ডেস্ক ।।
কখনো কি খেয়াল করেছেন, আচমকাই ত্বকে কেমন একটা সুরসুরি অনুভূতি শুরু হয়? কিছুতেই যেন তা থামতে চায় না, যতক্ষণ না আঙুল দিয়ে বেশ খানিকটা চুলকে নেওয়া যাচ্ছে! চুলকানি আসলে এমন এক অতিপরিচিত ও স্বাভাবিক অভিজ্ঞতা, যা মানুষের দৈনন্দিন জীবনেরই অংশ। কিন্তু ইদানীং আমাদের চারপাশে এই ‘চুলকানি’ বা ত্বক সংক্রান্ত সমস্যা যেন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি বেড়ে গেছে।
ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে বাংলাদেশে ঘরে ঘরে দেখা দিচ্ছে ত্বকের নানান সমস্যা। একদিকে তীব্র গরম ও স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়া, অন্যদিকে ধুলোবালি ও পরিবেশ দূষণ—সব মিলিয়ে বাঙালির ত্বক যেন এখন রীতিমতো এক অদৃশ্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। গরম থেকে হঠাৎ শীতের আগমনী বার্তা কিংবা বর্ষার পর আবহাওয়ার খামখেয়ালীপনায় ত্বক শুষ্ক ও রুক্ষ হয়ে পড়ছে, দেখা দিচ্ছে নানা ধরনের অ্যালার্জি, ফুসকুড়ি ও একজিমা।
আন্তর্জাতিক গবেষণা তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে ত্বকজনিত রোগ বৃদ্ধির হার আশঙ্কাজনক। ১৯৯০ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী ত্বকের সমস্যায় ভোগা রোগীর সংখ্যা প্রায় ৮৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক চর্মরোগ বিষয়ক সাময়িকীতে প্রকাশিত এক জরিপে দেখা গেছে, বিশ্বজুড়ে প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রায় ৩৯.৮ শতাংশ প্রতি সপ্তাহে কোনো না কোনো সময় ত্বকের চুলকানিতে ভোগেন। এশীয় অঞ্চল, বিশেষ করে বাংলাদেশ ও পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে এই হার আরও বেশি। এখানকার প্রায় ৪২ শতাংশেরও বেশি মানুষ নিয়মিত ত্বক চুলকানো বা অ্যালার্জির সমস্যায় অস্বস্তি বোধ করেন।
বাংলাদেশের জলবায়ু ও পরিবেশগত কারণে এখানকার মানুষের ত্বকের সুরক্ষা বজায় রাখা দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। বিশেষ করে ঋতু বদলের সংবেদনশীল সময়ে বাতাসের আর্দ্রতার দ্রুত ওঠা-নামা ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা কেড়ে নেয়। ফলে ত্বকে দেখা দেয় র্যাশ, খসখসে ভাব ও তীব্র অস্বস্তি। এর সঙ্গে নগরাঞ্চলের বাতাসে ভাসমান ধূলিকণা ও দূষণ যুক্ত হয়ে সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলছে।
তবে আশার কথা হলো, ত্বকের চিকিৎসা ও শনাক্তকরণে এখন এসেছে যুগান্তকারী পরিবর্তন। আগে যেখানে ত্বকের সঠিক সমস্যা চিহ্নিত করতেই দীর্ঘ সময় লেগে যেত, এখন আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান ও নতুন ডায়াগনস্টিক সরঞ্জামের কল্যাণে তা অতি দ্রুত ধরা সম্ভব হচ্ছে। দ্রুত রোগ নির্ণয়ের সুবিধা মেলায় মিলছে নির্দিষ্ট ও কার্যকারী চিকিৎসা। নতুন প্রযুক্তির সুবাদে ত্বকের চুলকানি ও অ্যালার্জি থেকে মুক্তি পাওয়া এখন অনেকটাই সহজ ও দ্রুততর হয়েছে।
ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে ত্বকের সুস্থতায় চিকিৎসকরা বাড়তি সতর্কতার পরামর্শ দিচ্ছেন। ত্বক পরিষ্কার রাখা, আবহাওয়া অনুযায়ী সঠিক ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা এবং প্রচুর পানি পান করাই হতে পারে প্রাথমিক সুরক্ষাকবচ। আর সমস্যা বাড়লে ঘরোয়া টোটকার ওপর ভরসা না রেখে আধুনিক চিকিৎসার শরণাপন্ন হওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।








