মোঃ নজরুল ইসলাম, অষ্টগ্রাম প্রতিনিধি ।।
“আমাদের ছোট নদী চলে বাঁকে বাঁকে, বৈশাখ মাসে তার হাঁটু জল থাকে।” মেঘনা নদী থেকে কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার বুক চিরে বয়ে যাওয়া একসময়ের প্রবল স্রোতে আর গভীর জলরাশির শাখানদী ধলেশ্বরীতে এখন শুধু বৈশাখেই নয় কার্তিক থেকে বৈশাখ প্রায় সাতটি মাস নদীর কোথাও কোথাও থাকে হাঁটু কিংবা তার চাইতেও কম পানি।
ভরা নদীতে অবৈধ মাছের ঘের আর শুকনো চরে সবুজ ধানক্ষেত এটাই এখন এ নদীর বাস্তব চিত্র। নদী তার স্বাভাবিক গতিপথ হারিয়ে আজ মৃত প্রায়। একদিকে নদীতে ঘন ঘন মাছের ঘের ও অন্যদিকে স্রোত না থাকায় পলি পড়ে নদীর গভীরতা কমে গেছে।
দুই পাড় অবৈধ দখলের কারণে দিন দিন ছোট হয়ে আসছে এ নদী। নদীতে পানি না থাকায় দীর্ঘ দিন ধরেই কাস্তুল বাজার থেকে সাভিয়ানগর হয়ে অষ্টগ্রাম সদরে লঞ্চ ও নৌ যোগাযোগ বন্ধ হয়ে আছে। নদীর বেশিরভাগ অংশ চর পড়ে শুকিয়ে যাওয়ায় তা দখল করে এটিকে ফসলী জমিতে রূপ দিচ্ছে এক শ্রেণীর অবৈধ ও প্রভাবশালী দখলদাররা।

চর কেটে খণ্ড খণ্ড করে ফসলী জমিতে পরিণত করায় যেমনি নষ্ট হচ্ছে নদীর স্বাভাবিক পরিবেশ, তেমনি ওইসব ফসলী জমিতে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারের ফলে এর বিষক্রিয়ায় পোনা ও মা-মাছসহ নদীতে থাকা বিভিন্ন জলজ প্রাণীর মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।
নদীটি পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়- উপজেলার কাস্তুল, দেওঘর, অষ্টগ্রাম সদর ও বাঙ্গালপাড়া ইউনিয়নের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীটিকে ফসলী জমিতে পরিণত করার দৃশ্য। এ ব্যাপারে বিশিষ্ট সমাজকর্মী মুহা. রেশম খান বলেন- নদীটির বেশিরভাগ জায়গা এক শ্রেণীর প্রভাবশালী দখলদারেরা দখল করে রেখেছে। এতে নদীর স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। তাই নদীটিকে দ্রুত দখলমুক্ত করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সালাহ উদ্দিন এ প্রতিবেদককে জানান- নদী খননের জন্য প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে, অচিরেই খনন কাজ শুরু হবে বলে আশা করছি।

