ইরানে প্রাথমিকে ইংরেজি শিক্ষা ‘নিষিদ্ধ’

আমাদের নিকলী ডেস্ক ।।

এক সপ্তাহের বিক্ষোভের ঘটনার পরপরই এই নিষিদ্ধের ঘোষণাটি এলো, যে বিক্ষোভের জন্য ‘পশ্চিমা ইন্ধনকেই’ দুষছে ইরান। ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ইংরেজি শিক্ষাকে পশ্চিমা বিশ্বের ‘সাংস্কৃতিক আগ্রাসন’ বলে উল্লেখ করেছেন।

রোববার দেশটির শিক্ষা বিষয়ক একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা সাক্ষাৎকারে ইংরেজি শিক্ষা নিষিদ্ধের বিষয়টি জানান।

রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম আইআরআইবি-কে দেয়া সাক্ষাৎকারে হাই এডুকেশন কাউন্সিলের কর্মকর্তা মেহদি নাভিদ-আদহাম বলেন, ইংরেজি শিক্ষা সাংস্কৃতিক আগ্রাসন ছাড়া আর কিছু নয়।

‘‘এর কারণ, ইংরেজি থাকলে প্রাথমিক শিক্ষায় ইরানের সংস্কৃতি চাপা পড়ে যায়। তাই সরকারি ও বেসরকারি স্কুল দু’টোর জন্যই প্রাথমিক পর্যায়ে ইংরেজি নিষিদ্ধ,” রয়টার্সকে বলছিলেন মেহদি।

ইরানের জন্য এই নিষেধাজ্ঞা নতুন নয়। তাদের সরকারিভাবে তৈরি করা পাঠ্যসূচিতে সপ্তম গ্রেড পর্যন্ত ইংরেজি শিক্ষা নেই।

কিন্তু বেসরকারিভাবে কোনো কোনো স্কুল বা ডে কেয়ার সেন্টার বাচ্চাদের ইংরেজি শেখাতো। ২০১৬ সালে বিষয়টি জানাজানি হবার পর দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন।

মেহদির মতো তিনিও বলেছিলেন যে, এটি ‘পশ্চিমা সাংস্কৃতিক আগ্রাসন’।

নতুন ঘোষণাটি আসার পর তা বেসরকারি স্কুলগুলোকেও মানতে হবে।

গেল সপ্তাহ জুড়ে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ হয়। সেই বিক্ষোভের জন্য পশ্চিমা বিশ্বকে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রকে ইন্ধন যোগানোর জন্য কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে ইরান।

সরকারির পাশাপাশি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইংরেজি নিষিদ্ধের বিষয়টি সেই ঘটনার জেরেই একটি ‘পাল্টা জবাব’ কিনা তা অনেকেরই প্রশ্ন।

সূত্র : ইরানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইংরেজি শিক্ষা ‘নিষিদ্ধ’  [ডয়চে ভেলে, ৮ জানুয়ারি ২০১৮]

Similar Posts

error: Content is protected !!