মহাস্থান (বগুড়া) প্রতিনিধি ।।
বিএনপি মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ৩০ ডিসেম্বর দেশে প্রকৃতপক্ষে কোনো নির্বাচনই হয়নি। হয়েছে নির্বাচনের নামে প্রহসন। ওই নির্বাচন আমরা সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাখ্যান করেছি। এই নির্বাচনী প্রহসন প্রমাণ করেছে, ২০১৪ সালে নির্বাচনে বিএনপি তথা ২০ দলের অংশ না নেয়ার সিদ্ধান্ত ছিল সঠিক।
তিনি বলেন, আমার কাছে কারাবন্দী নেত্রীর নির্দেশনা এসেছে, নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতিতে দলকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। সব দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ভেদাভেদ ভুলে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হবে। ২০ দল ও ঐক্যফ্রন্ট এবং এর বাইরে যারা গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করছেন, তাদের সবাইকে সাথে নিয়ে গড়ে তুলতে হবে বৃহত্তর ঐক্য। এই মুহূর্তে দেশকে গণতন্ত্রের ধারায় ফিরিয়ে আনার জন্য জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করাই হবে আগামী দিনে আমাদের মূল কাজ।
মীর্জা ফখরুল বুধবার (২৩ জানুয়ারি ২০১৯) বেলা ১টায় রংপুর-ঢাকা মহাসড়কে বগুড়ার হোটেল মম ইন-এর কনফারেন্স রুমে বগুড়া সদর উপজেলা বিএনপি আয়োজিত স্থানীয় নেতাকর্মীদের সাথে এক শুভেচ্ছা সভায় এই আহ্বান জানান।
বগুড়া সদর থানা বিএনপি সভাপতি মাফতুন আহম্মেদ খান রুবেলের পরিচালনায় আয়োজিত এই সভায় আরো বক্তব্য রাখেন বগুড়া জেলা বিএনপি সভাপতি ভিপি সাইফুল ইসলাম। সভায় উপস্থিত ছিলেন বগুড়া জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন চান, সাবেক সভাপতি পৌর মেয়র অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান, সাবেক সংসদ সদস্য হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু, জি এম সিরাজ, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা, ফজলুল বারী তালুকদার বেলাল, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আলী আজগর তালুকদার হেনাসহ সিনিয়র নেতৃবৃন্দ।
শুভেচ্ছা সভায় মীর্জা ফখরুল বলেন, দেশে এখন এক অস্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করছে। দেশের গণতন্ত্রপ্রিয় মানুষ, মন খুলে কথা পর্যন্ত বলতে পারছে না। নির্বাচনের আগে সারাদেশে দলের নেতাকর্মীদের ওপর যে দমন-পীড়ন অত্যাচার-নির্যাতন হয়েছে, নির্বাচনের পরও তা অব্যাহত রয়েছে। এখন কোথাও কোথাও বিএনপি নেতাকর্মীদের দোকানপাটও দখল করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, নির্বাচনে তথাকথিত মহাবিজয়ের পর আওয়ামীলীগ বড় বড় কথা বললেও প্রকৃতপক্ষে তারা জনগণ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। নোয়াখালীর সুবর্ণচরের ধর্ষিতা নারীকে দেখতে গেলে হাসপাতালে এত মানুষ উপস্থিত হয় যে সেখানে তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। নোয়াখালীসহ যেখানেই গিয়েছি, সেখানেই নেমেছে জনতার ঢল। এবারের ভোটে অনেক আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীও ভোট দিতে পারেনি। গণতন্ত্র ও ভোটপ্রিয় ৯৯ শতাংশ মানুষই এখন আওয়ামীলীগের বিপক্ষে চলে গেছে।
তিনি বলেন, গ্লোবাল পলিটিক্সে এখন গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রের সংজ্ঞা পাল্টে গেছে। তাই পরিবর্তিত পরিস্থিতির আলোকে আমাদের নতুন করে পথচলা ঠিক করতে হবে। শহীদ জিয়ার দেখানো বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের রাজনীতির বিষয়টি মাথায় রেখে আমাদের দলকে জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে শক্তিশালী করতে হবে।
মীর্জা ফখরুল ইসলাম ঠাকুরগাঁও থেকে ঢাকায় ফেরার পথে অনুষ্ঠিত এই সংক্ষিপ্ত শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে নেতৃবৃন্দ ছাড়াও বিপুলসংখ্যক কর্মী-সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।


