বিশেষ প্রতিনিধি ।।
আজ সকাল থেকে শুরু হচ্ছে উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের নির্বাচন। এরই মধ্যে ২১ এপ্রিল দিবাগত রাত ১২টা থেকে সব ধরনের নির্বাচনী প্রচারণামূলক কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে।
এবারই প্রথমবারের মতো দলীয় ব্যানারে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। শুরু থেকেই সবাই নিজ নিজ দল থেকে মনোনয়ন লাভের জন্য দৌড়ঝাপ করেছেন। তৃণমূল কর্মী-সমর্থক থেকে শুরু করে দলের অনেক বড় বড় নেতা পর্যন্ত এই দৌড়ের পরিধি বিস্তৃত ছিলো। যারা দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন তারা অন্যদের চেয়ে কিছুটা অতিরিক্ত সুবিধা পাবেন সেটাই স্বাভাবিক। ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের বাইরেও তাদের দলীয় সমর্থন অনেকটাই এগিয়ে রাখবে; এই আশা থেকেই এমন প্রাণপণ চেষ্টা-তদবির।
আওয়ামীলীগ সমর্থিত প্রার্থীদের পাল্লা বরাবরই ভারী ছিলো। তারা এখন সরকারে আছে। তবু তুলনামূলক চিত্রে দেখা গেছে, তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠিত করা, নির্বাচনী প্রচারণামূলক কর্মকাণ্ডে সব থেকে আওয়ামীলীগ সমর্থিতরাই বেশি খেটেছেন। এ উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও তারা কাউন্সিলের মাধ্যমে নির্ধারণ করেছে। আওয়ামীলীগের নীতিনির্ধারক পর্যায় থেকে কঠোর দিকনির্দেশনা থাকার ফলে তাদের বিদ্রোহী প্রার্থীর সংখ্যা কম। সব পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের নির্বাচনী কার্যক্রমে সারাক্ষণ ব্যস্ত থাকতে দেখা গেছে। তাদের সবচেয়ে বড় সুবিধা ছিলো, বেশ কয়েক বছর যাবত দল সরকারে থাকায় প্রকল্প, পরিকল্পনা, উন্নয়ন, সম্ভাবনা, স্বপ্ন- সাধারণ ভোটারের সামনে তুলে ধরতে তেমন বেগ পেতে হয়নি। তবে পূর্ব প্রতিশ্রুত কিছু ক্ষেত্রে বাস্তবায়ন হয়নি এমন জায়গায় তাদের কিছুটা ধাক্কা খেতেও হয়েছে।
নিকলীতে নির্বাচনী আবহ শুরু হওয়া থেকে শেষ পর্যন্ত বিএনপির কার্যক্রমে অগোছালো ভাব লক্ষ করা গেছে। প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলো যখন নিজেদের প্রার্থী বাছাই শেষ করেছে, তখনো বিএনপি কাদের মনোনয়ন দিচ্ছে তা ঠিক করতে পারেনি। প্রার্থী নির্বাচনেও স্পষ্টতা ছিলো না। তৃণমূল থেকে আঞ্চলিক নীতিনির্ধারক পর্যন্ত পুরোপুরি সমন্বয়হীন ছিলো। দলের বড়মাপের কোনো নেতাকে প্রচারণামূলক কার্যক্রমে খুব একটা জড়াতে দেখা যায়নি। দলের ভেতর বিদ্রোহী প্রার্থী রোধে কঠোরতা না থাকায় প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নে একাধিক বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী দেখা গেছে; যা তাদের দলীয় সমর্থনে চিড় ধরিয়েছে। দীর্ঘদিন দল ক্ষমতায় না থাকায় সাধারণ ভোটারের কাছে নিজেদের মেলে ধরতে বেগ পেতে হয়েছে। ভবিষ্যত প্রতিশ্রুতি ছাড়া বিকল্প বোঝানোর কোনো উপায় ছিলো না বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীদের।
যদিও সারাদেশের মতো নিকলীতেও বড় দুই দলের মধ্যেই লড়াইটা হচ্ছে। তবু এবার ৭টি ইউনিয়নের দু’-একটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বেশ জোরেসোড়ে নিজেদের অবস্থান জানান দিয়েছেন। তাদের প্রচার-প্রচারণা, সাধারণ ভোটারের সাড়া দেখে মনে হয়েছে দলীয় ভিত নড়িয়ে দিয়ে তারাও জয়ের মুকুট ছিনিয়ে নিতে পারেন। নিজেদের ইউনিয়নকে স্বতন্ত্র রঙে রাঙিয়ে বিজয় মিছিল বের করলে আশ্চর্য হবার কিছু থাকবে না।
হিসাব-নিকাশ শেষ। এবার সাধারণ মানুষ আগামী ৫ বছরের জন্য তাদের ইউনিয়ন নেতা নির্ধারণের জন্য প্রস্তুত। আশা করা যাচ্ছে, ভোটারেরা সঠিক ব্যক্তিকেই তাদের নেতা হিসেবে বেছে নিবেন। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী থেকে নির্বাচিতদের কাছে প্রত্যাশা থাকবে, ভোটে জিতে দূরে সরে থাকা নয়; জনসাধারণের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার সঠিক মূল্যায়নটি আপনিও করে দেখাবেন। সাধারণের কাতারে থেকে সবার দুঃখ-দুর্দশার ভাগিদার হবেন।

