মহাস্থা (বগুড়া) প্রতিনিধি ।।
সোমবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিকালে মহাস্থান হাট অফিস চত্তরে মহাস্থান বণিক সমিতির উদ্যোগে এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভাপতিত্ব করেন বণিক সমিতির সভাপতি রায়নগর ইউপি চেয়ারম্যান ফিরোজ আহম্মেদ রিজু।
সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, গত ৭ ফেব্রুয়ারি রুপালী ব্যাংক মহাস্থান শাখায় বড় ধরনের আর্থিক অনিয়ম ও জালিয়াতি ধরা পড়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় মহাস্থানের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আলহাজ্ব আজমল হোসেনের বিরুদ্ধে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে। ৬ ফেব্রুয়ারি আজমল হোসেন ব্যাংকে গিয়ে ম্যানেজারের কাছে তার পরিচালনাধীন ৩টি হিসাবের হিসাব বিবরণী চাইলে ম্যানেজার জানান, বিকালের আগে হিসাব বিবরণী দেয়া সম্ভব নয়। আজমল হোসেন বিকালে পুনরায় ব্যাংকে গিয়ে জানতে পারেন, ম্যানেজার জবায়নুর রহমান দুপুরের পর ব্যাংক থেকে চলে গেছেন। পরে তিনি ব্যাংকের ২য় কর্মকর্তার কাছে হিসাব বিবরণী চাইলে তিনি ব্যবসায়ী আজমল হোসেনকে ৩টি হিসাবের বিবরণী কম্পিটার থেকে প্রিন্ট করে দেন। হিসাব বিবরণী হাতে পাওয়ার পর ব্যবসায়ী আজমল হোসেন তার ৩টি হিসাবে প্রায় ৬০ লক্ষাধিক টাকার গড়মিল খুঁজে পান। সাথে সাথে তিনি গড়মিলের বিষয়ে ব্যাংকের কর্মকর্তাদ্বয়কে জানালে তিনি শাখা ব্যবস্থাপক বরাবরে একটি আবেদন দাখিল করতে বলেন। পরে ব্যবসায়ী আজমল হোসেন দরখাস্ত দাখিল করে তার রিসিভ কপি গ্রহণ করে চলে যান। একই দিনে গভীর রাতে বগুড়া সদর থানা পুলিশ ব্যাংক জালিয়াতি বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার কথা বলে ব্যবসায়ী আজমল হোসেনকে তার বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়। পরে তাকে জানানো হয় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তার নামে মামলা দায়ের করেছে। সে মোতাবেক তাকে আটক করে কোর্টে প্রেরণ করা হয়। পরবর্তীতে আজমল হোসেন জামিনে মুক্ত হন।
তিনি আরো বলেন, ব্যবসায়ী আজমল হোসেন মহাস্থান এলাকার একজন স্বনামধন্য ব্যবসায়ী, অত্র এলাকার তার সুনাম দীর্ঘদিনের। তিনি এহেন অন্যায় কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত হতে পারেন না। ব্যাংকের দুর্নীতি ঢাকবার জন্য ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন।
তিনি অবিলম্বে বণিক সমিতির পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে তাকে হয়রানির বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদসহ তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান। সেই সাথে এলাকার যেসব গ্রাহকের হিসাবে গড়মিল পাওয়া গেছে তাদেরকে দ্রুত টাকা ফেরৎ প্রদানের দাবিও জানান তিনি।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, ব্যবসায়ী আলহাজ্ব আজমল হোসেন, আলহাজ্ব জাহেদুর রহমান,বাবুল মিয়া বাবু, মোশারফ হোসেন, শফিকুল ইসলাম শফি, শাহাদৎ হোসেন, ফুল মিয়া, দুলাল হোসেন, ইউপি সদস্য রায়হান আলী, আলাউদ্দিন, বেলাল মন্ডল, সিরাজুল ইসলাম, জিয়াউর রহমান জিয়াসহ বণিক সমিতির সকল সদস্য ও ব্যবসায়ীবৃন্দ।


