নিকলীতে পিট কয়লার খনি!

আবদুল্লাহ আল মহসিন ।।
কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার বিভিন্ন হাওরের জমি, খাল, নদী খনন করলে কালো মাটি পাওয়া যায়।
উপজেলার ছাতিরচর, রোদা নদী, সোয়াইজনী নদী, পয়তানিয়ার হাওরে মাটি খনন করলেই কালো মাটি বেরিয়ে আসে। দিন দিন বেড়ে চলছে কালো মাটির চাহিদা। প্রায় ১৫ বছর আগে প্রথম প্রথম হাওরের মানুষ জ্বালানী কাজে ব্যবহার করতো, তবে কিছুদিন যাবত এ মাটি দিয়ে জৈব সারের চাহিদা পূরণ করছে। ষাইটধার গ্রামের এক গৃহবধূ জানান, প্রতি বোঝাই মাটি ২০০ টাকা করে কিনছি। মাটি শুকানোর পর রান্নার কাজে ব্যবহার করি, ভালো জ্বলে।

Pit-Coal
কালো মাটি সবচেয়ে বেশি আহরণ করা হয় উপজেলা সদরের পশ্চিম দিকের সোয়াইজনী নদীর পাড় পয়তানিয়ার হাওরে। সেখানকার জমির ৩ থেকে ৪ ফুট খনন করলে বেরিয়ে আসে কালো মাটি। মাটি নয় যেন কয়লার খনি! সরেজমিনে এখানে মাটি খননকারী উপজেলার সদর ইউনিয়নের আনফর আলীর ছেলে শাহজাহান মিয়া আমাদের নিকলীকে জানান, ২০০৮ সাল থেকে আমি এখান থেকে কালো মাটি উত্তোলন করে সুনামগঞ্জ, গাজীপুর, ময়মনসিংহ, বগুড়া, দিনাজপুরসহ জেলা-উপজেলার ইটের ভাটায় ও গ্রামে বিক্রি করছি। তিনি আরো জানান, কিছু ব্যবসায়ী এ মাটি দিয়ে বর্তমানে জৈব সার প্রস্তুত করে নিকলীসহ বিভিন্ন জায়গায় বাজারজাত করেছে।
এ মাটি সম্পর্কে জানতে চাইলে সার্ক সেন্টারে কর্মরত বিশিষ্ট কৃষিবিজ্ঞানী হাওর ভূমিপুত্র নামে খ্যাত ডঃ নিয়াজ পাশা আমাদের নিকলীকে বলেন, এ কালো মাটি মূলত পিট কয়লা। হাজার বছর আগে ভূমিকম্প বা অন্যকোন কারণে বৃক্ষ ও উদ্ভিদ নদী পাড়ে ও হাওরের পানিতে পড়ে জৈব পদার্থে পরিণত হয়। পরে সেসব জৈব পদার্থ তাপ ও চাপে পিট কয়লায় রুপান্তরিত হয়।যার মধ্যে কার্বনের পরিমাণ খুব বেশি।তাই আগুনের সংস্পর্শে গেলেই জ্বলে ওঠে। সচেতন মহল মনে করে, হাওরের বুকে লুকানো এ সম্পদ সঠিক ভাবে আহরণ করতে পারলে দেশের জ্বালানী ও জৈব সারের চাহিদা মিটবে।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!