মাহমুদ আল আজাদ, হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি ।।
হাটহাজারী উপজেলার ধলই ইউনিয়নের চাঞ্চল্যকর হত্যামামলার আসামি কোরবান আলী প্রকাশ বেলাল হোসেনকে (২৮) আটক করেছে মডেল থানা পুলিশ। ২৫ সেপ্টেম্বর বুধবার ভোরে পৌরসদরস্থ সবজি বাজার থেকে আটক করা হয়। আটককৃত বেলাল ফটিকছড়ি উপজেলার মানিকপুর মাইজপাড়া খন্দকারপাড়া বদিউল মেম্বার বাড়ির বদিউল আলম ও আরাফা বেগমের পুত্র।
থানা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ধলই ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ড় সফিনগর গ্রামের তৈল্যবিল নামক ধানি জমিতে অর্ধগলিত অজ্ঞাত (১৮) যুবকের পরিচয় পাওয়া গেছে। তার নাম আরিফ (১৮)। তার হত্যাকারী বেলাল বর্তমানে উপজেলার চৌধুরীর হাট স্টেশনের পশ্চিমে কুতুব চৌধুরী বাড়ি জামশেদের বাড়ির ভাড়া বাসায় স্ত্রী রোকসানা বেগমের সাথে থাকতেন।
স্ত্রীর সাথে স্বামীর বনিবনা না হওয়ায় স্ত্রী রোকসানা তার বাবার বাড়িতে চলে আসে। এই কারণে ঘাতক আসামি বেলাল তার স্ত্রী, শ্বশুর, শাশুড়ি, শ্যালকসহ শ্বশুর পরিবারের অন্য সদস্যদের এবং ওই এলাকার সর্দারদেরকে মিথ্যা হয়রানী করার জন্য পরিকল্পনা করে এক পর্যায়ে চৌধুরীরহাট জনৈক জানে আলমের গরুর ফার্মের কর্মচারি আরিফকে (১৮) হত্যা করে তার শ্বশুর পরিবারকে মিথ্যা মামলায় জড়াবে মর্মে একটি চিঠি লিখে চিঠিতে উল্লেখ করে “আমার মৃত্যুর জন্য শ্বশুর আজম খা, শ্যালক রাশেদ, জাকির, নুরু সর্দারগণ দায়ী।”

পরবর্তীতে গত ১৮/০৯/২০১৯ ইং তারিখ রাত অনুমান সাড়ে ৯টায় ভিকটিম আরিফকে বলে চলো আমার শ্বশুরবাড়ি যাই। সেখানে গিয়ে আমরা দাওয়াত খেয়ে আমার বউকে নিয়া আসি বলে তার লেখা চিঠির একটি ফটোকপি ভিকটিমকে দিয়ে বলে এটা তোমার মানিব্যাগে রাখো। তার কথামতো আরিফ চিঠির ফটোকপি মানিব্যাগে রাখে এবং আরিফকে নিয়ে ও একটি পুরাতন দা ধার দিয়ে সেটা কোমরে গুঁজে নিয়ে একটি সিএনজি অটোরিকশা করে শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা করে।
২ নং ধলই ইউনিয়নের অন্তর্গত পশ্চিম ধলই গ্রামে উত্তর বিলের মধ্যখানে জনৈক নাজিম উদ্দিনের ধানক্ষেতে পৌছে ভিকটিমকে বলে এখন শ্বশুরবাড়িতে যাওয়া যাবে না। লোকজন আছে। এখানে একটু বসো। তার কথামত ভিকটিম তার পায়ে থাকা স্যান্ডেল খুলে স্যান্ডেলের উপর ধানক্ষেতের আইলে বসে পড়ে। রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টায় আসামি তার কোমরে থাকা দা বের করে গলায় দুটি কোপ দিলে ভিকটিম মাটিতে লুটিয়ে পড়ে ও মৃত্যুবরণ করে। পরবর্তীতে আসামি সেখান থেকে চলে আসে এবং চিঠির ফটোকপি করে বিভিন্ন জায়গায় বিলি করে।
সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মাসুমের নেতৃত্বে অফিসার ইনচার্জ মোঃ বেলাল উদ্দিন জাহাঙ্গীর, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ আফজাল হোসেন, পুলিশ পরিদর্শক অপারেশন তৌহিদুল করিম, পুলিশ পরিদর্শক ইন্টেলিজেন্স রাজিব শর্মা, মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই মোঃ আবেদ আলী ও এসআই মোঃ ইউনুস সঙ্গীয় ফোর্সসহ বেলালকে গ্রেফতার করা হয়। ভিকটিমের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় এখনও পাওয়া যায়নি বলে থানা সূত্র নিশ্চিত করে।
উল্লেখ্য, ২১ সেপ্টেম্বর শনিবার দুপুর একটার দিকে হাটহাজারী উপজেলার ধলই ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ড সফিনগর গ্রামের তৈল্যবিল নামক ধানি জমিতে অর্ধগলিত অজ্ঞাত (১৮) এক যুবকের লাশ পাওয়া যায়। খবর পেয়ে মডেল থানার পুলিশ তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে লাশটির সুরতহাল নির্ণয়ের পর উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে প্রেরণ করে।

