নিকলীতে পিএফজির আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি সংলাপ অনুষ্ঠিত

মোঃ নুরুল ইসলাম, বিশেষ প্রতিনিধি ।।

“সংঘাত নয়, শান্তি ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ি” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জের নিকলীতে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সহিংসতা এবং সম্প্রতি সুদৃঢ়করণের লক্ষ্যে আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৭ জুন) সকাল ১১টায় নিকলী উপজেলা পরিষদ হলরুমে পিস ফ্যাসিলিটেটর গ্রুপ (পিএফজি) আয়োজিত এ সংলাপে রাজনৈতিক, ধর্মীয়, সামাজিক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

পিএফজি নেতা ও সাবেক ইউপি সদস্য জসিম উদ্দিন মেম্বারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংলাপে প্রধান অতিথি ও উদ্বোধক হিসেবে বক্তব্য দেন নিকলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেহানা মজুমদার (মুক্তি)। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সাবেক উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কফিলউদ্দিন আহম্মেদ।

এছাড়া বক্তব্য দেন নিকলী গোরাচাঁদ পাইলট মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আব্দুর রশিদ, দি হাঙ্গার প্রজেক্টের মাঠ সমন্বয়কারী মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান, বীর মুক্তিযোদ্ধা বেলায়েত হোসেন (বিল্লাল), নিকলী মুক্তিযোদ্ধা আদর্শ সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক জামরুল ইসলাম, সাবেক উপজেলা কৃষক দল সভাপতি ও নিকলী সদর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মোঃ নজরুল ইসলাম, সাবেক ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আল মামুন মেম্বার, নিকলী ঈদগাহ মাঠের ইমাম মাওলানা আবুল কালাম, উপজেলা কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমাম মাওলানা সাদেকুর রহমান, নিকলী পুকুরপাড় জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা সাহাব উদ্দিন এবং রতন কুমারসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

পিএফজির পিস অ্যাম্বাসেডর ও উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মোঃ সাইফুল ইসলামের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত এই বহুদলীয় প্ল্যাটফর্মের মূল লক্ষ্য হলো উপজেলা পর্যায়ে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখা, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সহিংসতা প্রশমনে কার্যকর নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা এবং জনসচেতনতামূলক উদ্যোগ গ্রহণ করা।

সংলাপে বর্তমান সামাজিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে মাদক, জুয়া, অনাচার ও অবিচারের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। এসব সমস্যা প্রতিরোধে সম্মিলিত সামাজিক উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।

বক্তারা আরও বলেন, একটি বৈষম্যহীন, মানবিক ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়তে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা ও গণতান্ত্রিক চর্চা জোরদার করা প্রয়োজন। তারা এমন একটি বাংলাদেশের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, যেখানে লিঙ্গ, বয়স, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র ও সম্প্রদায় নির্বিশেষে সকল নাগরিক সমান অধিকার ভোগ করবে এবং সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত হবে।

সংলাপ শেষে অংশগ্রহণকারীরা সম্প্রীতি, সহনশীলতা ও সামাজিক ঐক্য প্রতিষ্ঠায় সম্মিলিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

Similar Posts

error: Content is protected !!