মোঃ নুরুল ইসলাম, বিশেষ প্রতিনিধি ।।
“সংঘাত নয়, শান্তি ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ি”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলায় শান্তি ও সম্প্রীতি সুদৃঢ়করণে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় স্থিতিশীলতার গুরুত্ব বিষয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (২৮ জুন) সকাল ১১টায় পিস ফ্যাসিলিটেটর গ্রুপ (পিএফজি)-এর আয়োজনে নিকলী নতুন বাজার ব্যবসায়ী সমিতির কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নিকলী উপজেলা শাখার সহ-সভাপতি ও পিএফজির পিস অ্যাম্বাসেডর সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন নিকলী গোরাচাঁদ পাইলট মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আব্দুর রশিদ, দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের মাঠ সমন্বয়কারী আক্তারুজ্জামান, নিকলী মুক্তিযোদ্ধা আদর্শ সরকারি কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক এএসএম আছাদ, সাবেক উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান (মানিক), জামায়াতে ইসলামী নিকলী উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা রফিকুল ইসলাম, নতুন বাজার জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা জাহিদুল ইসলাম, ফায়জুল কবির (খোকন), নীল রতন ও বিল্লাল হোসেন প্রমুখ।
সাবেক উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম মেম্বারের সঞ্চালনায় আয়োজিত সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সাবেক উপজেলা সাধারণ সম্পাদক কফিলউদ্দিন আহম্মেদ এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা বেলায়েত হোসেন (বিল্লাল)সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয় ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
সভায় বক্তারা সমসাময়িক রাজনৈতিক ও ধর্মীয় প্রেক্ষাপটে শান্তি, সম্প্রীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, বর্তমান সময়ে মাদকাসক্তি, ইভটিজিং, শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার প্রতি অনীহা, সামাজিক বিশৃঙ্খলা, আধিপত্য বিস্তার, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, চাঁদাবাজি ও মব সন্ত্রাসের মতো নানা সমস্যা সমাজের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব সমস্যা মোকাবিলায় রাজনৈতিক দল, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, অভিভাবক ও সমাজের সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
বক্তারা আরও বলেন, সন্তানদের সঠিকভাবে গড়ে তুলতে তাদের নিয়মিত খোঁজখবর রাখা এবং নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করা প্রতিটি অভিভাবকের দায়িত্ব ও কর্তব্য।
সভার শেষ পর্বে আন্তর্জাতিক শান্তি বিশ্লেষক মারিয়া কাস্তেলার একটি উক্তি তুলে ধরে বক্তারা বলেন, “শান্তি মানে শুধু সংঘাত বন্ধ হওয়া নয়; শান্তি মানে এমন এক সমাজ গড়ে তোলা, যেখানে মানুষ নিরাপদ বোধ করে, স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে পারে এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আশাবাদী থাকে।”

