তেলাওয়াতে দেশসেরা পাকুন্দিয়ার মোহাম্মদ আলী

আমাদের নিকলী ডেস্ক ।।

জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০১৮ উপলক্ষে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ আয়োজিত জাতীয় পর্যায়ের কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করেছে পাকুন্দিয়ার হাফেজ মোহাম্মদ আলী। মঙ্গলবার (১৫ মে ২০১৮) রাজধানীর জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমি মিলনায়তনে জাতীয় পর্যায়ের এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

হাফেজ মোহাম্মদ আলী পাকুন্দিয়া উপজেলার সুখিয়া ইউনিয়নের কাওয়ালীকান্দা গ্রামের প্রান্তিক কৃষক আবু বকর সিদ্দিক ও গৃহিণী রিনা বেগমের মেজো ছেলে। সে হোসেনপুর উপজেলার চরপুমদী আহমাদু জুবায়দা দাখিল মাদরাসার ৮ম শ্রেণির ছাত্র।

চরপুমদী আহমাদু জুবায়দা দাখিল মাদরাসার শিক্ষার্থী হওয়ায় হাফেজ মোহাম্মদ আলী হোসেনপুর উপজেলা পর্যায়ের প্রতিযোগী হিসেবে প্রথমে উপজেলা, পরে কিশোরগঞ্জ জেলা ও পরবর্তিতে ময়মনসিংহ বিভাগীয় কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করে জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার সুযোগ লাভ করে।

পারিবারিক সূত্র জানায়, হাফেজ মোহাম্মদ আলী আহমাদু জুবায়দা ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার ৮ম শ্রেণির একজন মেধাবী ছাত্র। ছোট বেলা থেকে কোরআন তেলাওয়াত এবং ইসলামী সংগীতের প্রতি আসক্ত ছিল সে। এমন কি এই বয়সেই বিভিন্ন ইসলামিক অনুষ্ঠানে কোরআন তেলাওয়াত ও ইসলামী সংগীত এবং ওয়াজ করে থাকে সে। বয়সে ছোট হলেও তার আশা অনেক বড়। বড় হয়ে অনেক বড় আলেম বা বক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখে সে।

কোরআন শিক্ষার প্রতি আসক্ত হয়ে মাত্র ৬ বছর বয়সেই স্থানীয় কাওয়ালীকান্দা ঠুটারজঙ্গল ‘খানক্বায়ে চিশতিয়া সাবেরীয়া সিদ্দিকিয়া হাফিজিয়া মাদরাসা’র নূরানি শাখায় ভর্তি হয় মোহাম্মদ আলী। সেখানে এক বছর নূরানি ও নাযারা পড়ার পর হিফজ বিভাগে উত্তীর্ণ হয়ে তিন বছরে ২৫ পারা কোরআন মুখস্ত করে। তারপরই পুরো কোরআন তেলাওয়াত শুনাতে গ্রামের বাড়ির মাদরাসা থেকে সনদপত্র নিয়ে ভর্তি হয় নারায়ণগঞ্জ জেলার জামি’আ আরাবিয়া দারুল উলূম দেওভোগ মাদরাসায়। দীর্ঘ ৭ মাস কোরআন তেলাওয়াত শুনানোর পর শারীরিক অসুস্থতার জন্যে নিজ বাড়িতে ফিরে আসে এবং হোসেনপুর উপজেলার সিদলা গ্রামের ‘দারুল হেদায়াত কওমি মাদরাসা’য় বিশেষ জামাতে ভর্তি হয়। পাশাপাশি উত্তরপুমদী ‘ইলাহি জামে মসজিদ’ এর ইমামের দায়িত্ব পালন করে। সাধারণ শিক্ষা গ্রহণ করার ইচ্ছা থেকে সে চরপুমদী ‘আহমাদু জুবায়দা ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসা’য় এ বছর ৮ম শ্রেণিতে ভর্তি হয়।

প্রান্তিক কৃষক আবু বকর সিদ্দিক ও গৃহিণী রিনা বেগমের ৫ ছেলে ও ৪ মেয়ের মধ্যে মোহাম্মদ আলী ২য় ছেলে। হাফেজ মোহাম্মদ আলীর ভাই-বোনদের মধ্যে কেউ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, মাধ্যমিক, প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি এবং স্থানীয় হাফিজিয়া মাদরাসায় হিফজ বিভাগে পড়া-লেখা করছে। গোবরে পদ্মফুল হয়ে ফোটা ভাই-বোনদের নিদারুণ অভাব আর কষ্টকে সঙ্গী করে পড়ালেখা চালাতে হচ্ছে।

এরকম পরিস্থিতিতে ভাগ্যের উজ্জ্বল প্রদীপ যেন ডাকছিল মোহাম্মদ আলীকে। ‘আহমাদু জুবায়দা ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসা’র প্রতিযোগী হিসেবে সে অংশ নেয় জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০১৮ উপলক্ষে হোসেনপুর উপজেলা পর্যায়ে কোরআন তেলাওয়াত এবং ইসলামী সংগীত প্রতিযোগিতায়। দুই বিভাগেই প্রথম হয়ে সে সুযোগ করে নেয় কিশোরগঞ্জ জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতায়। জেলা পর্যায়ে কোরআন তেলাওয়াতে ১ম স্থান অর্জন করে অংশ নেয় ময়মনসিংহ বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায়। সেখানেও প্রথম স্থান অধিকার করে নাম লেখায় সেরাদের সেরা হওয়ার লড়াইয়ে। দেশসেরার এই লড়াইয়ে জয়ী হওয়ায় দেশবাসীর কাছে মোহাম্মদ আলী এবং তার পরিবার দোয়া চেয়েছেন।

দেশসেরার স্বীকৃতি পেয়ে উচ্ছ্বসিত হাফেজ মোহাম্মদ আলী জানায়, আমি আমার পরিবার, মাদরাসার সুপার এবং মৌলভী শিক্ষিকার সহযোগিতায় এতদূর যেতে পেরেছি। সেই সাথে দেশবাসীর দোয়া আমার সাথে তো আছেই। আমার জন্যে যারা পরিশ্রম করেছেন, তাদের প্রতি আমি চিরকৃতজ্ঞ হয়ে থাকব সারাজীবন। সবাই আমার জন্যে দোয়া করবেন, যাতে আমি দেশ ও দেশের মানুষকে ভালোবেসে জাতির সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে পারি।

আহমাদু জুবায়দা ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার সহকারী মৌলভী শিক্ষিকা মোছা. শিরিনা আক্তার বলেন, আমি অত্যন্ত আনন্দিত এই জন্যে যে, আমাদের মাদরাসার মেধাবী ছাত্র হাফেজ মোহাম্মদ আলী জাতীয় পর্যায়ে সেরা হয়ে আমাদের মুখ উজ্জ্বল করেছে।

আহমাদু জুবায়দা ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার সুপার মো. আমিনুল হক বলেন, হাফেজ মোহাম্মাদ আলী মাদরাসার একজন মেধাবী ও নিয়মিত ছাত্র। সে দেশসেরা হওয়ায় আমরা গর্বিত। সে যেন আন্তর্জাতিক পর্যায়েও সেরা হয়ে আমাদের, পরিবারের, দেশ ও জাতির মুখ উজ্জ্বল করতে পারে, সেই দোয়া করি।

সূত্র : কোরআন তেলাওয়াতে দেশসেরা কিশোরগঞ্জের হাফেজ মোহাম্মদ আলী  [কিশোরগঞ্জ নিউজ, ১৭ মে ২০১৮]

Similar Posts

error: Content is protected !!