মহসিন সাদেক, লাখাই (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি ।।
কৃষি ভাণ্ডারখ্যাত লাখাইয়ের মাঠ জুড়ে বইছে সবুজের মহাসমারোহ। বাতাসে দুলছে সবুজ পাতায় মোড়ানো কৃষকের কষ্টের ফলানো ধূসর রঙ্গের কাচা ধানের শীষ। চৈত্রের এ সময়ে জমির বাড়তি পরিচর্চায় কৃষক যখন স্বপ্ন দেখছিল সোনালী ধানের, তখনই ম্লান হতে চলছে ক্লান্ত কৃষকের হাসিমাখা মুখ। হঠাৎ জমিতে আবাদকৃত বোরোসহ বিভিন্ন প্রজাতির ধানে ব্লাস্ট রোগের প্রাদুর্ভাবে দিশেহারা হয়ে পড়ছেন উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা।
যে ফসল ক’মাস পরেই কাটার কথা সেই ধানে হঠাৎ ব্লাস্ট রোগ দেখা দেয়ায় ধানে চিটে হওয়ার আশঙ্কায় এখন হতাশ কৃষককুল।
এলাকার কৃষকদের সাথে আলাপকালে জানা যায়, ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত জমির ধানের শীষ শুকিয়ে সাদা বা কলো হয়ে ঝিমিয়ে যাচ্ছে। যে শীষের ভেতর চাল পরিপুষ্ট হওয়ার কথা তা এখন পর্যন্ত শক্ত হওয়ার কোনো লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না। এতে ফসল উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা ব্যক্ত করেন অনেকেই।

এ ব্যাপারে লাখাই উপজেলা কৃষি উপ-কর্মকর্তার সাথে আলাপকালে জানা যায়, দিনের বেলায় অতিমাত্রায় রুদ্রতাপ ও রাতে অতিমাত্রায় ঠাণ্ডার কারণেই এমনটা হচ্ছে। এছাড়াও আগাম চাষের কারণেও এমনটা হতে পারে।
ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত জমি কিভাবে রক্ষা করা যায় জানতে চাইলে তিনি বলেন, জমিতে অনুমোদিত মাত্রায় ছত্রাকনাশক, ট্রোপার, ব্লাস্টটিল স্প্রে করলে জমির ফসল অনেকটা রক্ষা করা সম্ভব। এছাড়াও পটাশিয়াম সার প্রয়োগ উত্তম হবে। বাজারজাতকৃত নিম্নমানের বীজের প্রভাবে এমনটা হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটাও হতে পারে।
সূত্রে জানা যায়, ইতিমধ্যে লাখাই উপজেলার জরিফপুর, স্বজনগ্রাম, মাদনা, বেগুনাই, লাখাই ও বুল্লা ইউনিয়নের কিছু কিছু এলাকায় ব্লাস্ট রোগ দেখা দিয়েছে।
উল্লেখ্য, উপজেলায় মোট ১১ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে বোরোসহ অধিকাংশ জমিতে ২৮/২৯ এবং হাইব্রিড জাতের ধান চাষ করা হয়েছে।

